সকাল সকাল ডেস্ক
শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের পর রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন, ক্ষোভে ফুঁসছে মিশর শিবির।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে Argentina vs Egypt Referee Controversy এখন আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। আর্জেন্টিনা নাটকীয়ভাবে ৩-২ গোলে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছালেও ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ম্যাচজুড়ে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষে গিয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে Argentina vs Egypt Referee Controversy নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে কী কী অভিযোগ উঠেছে?
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ম্যাচের বিভিন্ন মুহূর্ত বিশ্লেষণ করে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিওর দাবি অনুযায়ী, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো একাধিকবার হলুদ কার্ড পাওয়ার মতো ফাউল করলেও রেফারি কোনও ব্যবস্থা নেননি। একইভাবে রদ্রিগো ডি পল, হুলিয়ান আলভারেজ এবং নিকোলাস গঞ্জালেসের বিরুদ্ধেও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগে মহম্মদ সালাহর ওপর হওয়া একটি ফাউল নিয়ে। মিশরের দাবি, ওই মুহূর্তে খেলা থামানো উচিত ছিল। কিন্তু রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে দেন এবং সেই আক্রমণ থেকেই আসে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল। এছাড়া মোস্তফা জিকোর একটি গোল অফসাইডের অভিযোগে বাতিল হওয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।
ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখায় মিশর

ম্যাচের প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মিশর। ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় তারা। এরপর আর্জেন্টিনা সমতা ফেরানোর সুযোগ পেলেও লিওনেল মেসির পেনাল্টি অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবির।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬৭ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে মহম্মদ সালাহ ও হাইসেম হাসানের দুর্দান্ত সমন্বয়ে মোস্তফা জিকো গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত।
শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন
দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও হাল ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। ৭৯ মিনিটে কর্নার থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৮৩ মিনিটে লিওনেল মেসি সমতা ফেরান। ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজ দুর্দান্ত ভলিতে জয়সূচক গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এই নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পরই Argentina vs Egypt Referee Controversy আরও জোরালোভাবে সামনে আসে। মিশরের সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, রেফারির সিদ্ধান্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
ক্ষুব্ধ মিশর কোচের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর দাবি, মাঠে ন্যায্য বিচার হয়নি এবং মিশরই ভালো ফুটবল খেলেছে। তিনি বলেন, এই ম্যাচের অভিজ্ঞতার পর তিনি আর ২০২৬ বিশ্বকাপের কোনও ম্যাচ দেখতে চান না।
কোচ আরও অভিযোগ করেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্টে ধরে রাখার অদৃশ্য চাপ কাজ করেছে। তবে তিনি তাঁর এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
বাতিল গোল নিয়ে জিকোর ক্ষোভ

মিশরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকোও রেফারিং নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, বাতিল হওয়া গোলটি বৈধ ছিল এবং গোটা ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বারবার আর্জেন্টিনার পক্ষেই গেছে। তিনি দাবি করেন, একই ধরনের পরিস্থিতিতে দুই দলের জন্য ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে।
পটভূমি
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রেফারিং বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR), অফসাইড এবং ফাউল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবারও Argentina vs Egypt Referee Controversy সেই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রভাব
এই বিতর্ক সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অন্য অংশের মতে, ম্যাচের উত্তেজনা থেকেই ঘটনাগুলিকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। বিতর্কের জেরে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নানা মত তৈরি হয়েছে।
সরকারি অবস্থান
এখনও পর্যন্ত ফিফা কিংবা ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। একইভাবে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।
জনসাধারণের জন্য তথ্য
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও বা পোস্টে করা সব দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই বা প্রমাণিত হয়নি। তাই দর্শকদের উচিত শুধুমাত্র ভাইরাল কনটেন্টের উপর নির্ভর না করে ফিফা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করা।
No Comment! Be the first one.