তেহরান সফরের আগে মুনিরকে ট্রাম্পের ফোন! ইরান নিয়ে মধ্যস্থতায় পাকিস্তান?

সকাল সকাল ডেস্ক

ইসলামাবাদ: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের আবহে পশ্চিম এশিয়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল পাকিস্তান। সোমবার তেহরানে পৌঁছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তার আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল বলে একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ওই আলোচনায় ইরান প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল বলেও সূত্রের খবর।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মুনিরকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। ইরানকে ফের আলোচনার টেবিলে আনার ক্ষেত্রে পাকিস্তান কোনও ভূমিকা নিতে পারে কি না, তা নিয়েও দু’জনের মধ্যে আলোচনা হয় বলে দাবি। যদিও হোয়াইট হাউসের তরফে এই ফোনালাপ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ফলে মুনিরের তেহরান সফরের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনও বার্তার যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

তেহরানে পৌঁছে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন মুনির। সেখানে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কালিবাফ। তাঁর অভিযোগ, জুন মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে ১৪ দফা সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তার একাধিক শর্ত মানেনি ওয়াশিংটন। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বেড়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টাও ধাক্কা খেয়েছে।

ইরানের দাবি, সমঝোতার শর্ত কার্যকর করতে প্রথমে আমেরিকাকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা, ইরানের সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সংক্রান্ত একাধিক বিষয় এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে তেহরানের কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের ভূমিকা বাড়াতে চাইছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান আগেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে। মুনিরের বর্তমান সফরের অন্যতম লক্ষ্যও আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে ফের কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি করা বলে মনে করা হচ্ছে।

মুনিরের সঙ্গে তেহরান সফরে রয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও। ইরানের একাধিক শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, আলোচনায় তেহরান জানিয়েছে যে তারা সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নের পক্ষে। পাকিস্তানও আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে।

একদিকে ইরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে কঠোর অবস্থানে তেহরান। এই টানাপড়েনের মধ্যে ট্রাম্প-মুনির ফোনালাপের খবর এবং তার পরেই পাক সেনাপ্রধানের তেহরান সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। এখন পাকিস্তানের উদ্যোগ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলতে পারে কি না, সেদিকেই নজর।

Read More News

সফল উৎক্ষেপণে আরও শক্তিশালী ভারতের প্রতিরক্ষা, ডিআরডিও-র অগ্নি-৪ পরীক্ষায় নতুন মাইলফলক

সকাল সকাল ডেস্ক নয়াদিল্লি : ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন...

Read More