সকাল সকাল ডেস্ক
ইসলামাবাদ, ২৪ আগস্ট: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করতে আজ, সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রবিবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে এই সফরের কথা জানিয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই আসিম মুনিরের এই সফর বলে মনে করা হচ্ছে।
পাকিস্তান সরকারের দু’টি সূত্রও সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে সেনাপ্রধানের ইরান সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
অন্য একটি সূত্রের দাবি, আসিম মুনিরের বৈঠকে চলমান সংঘাতের সর্বশেষ পরিস্থিতির পাশাপাশি ইরানের উপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এছাড়া ইসলামাবাদের সমঝোতা উদ্যোগের আওতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ভূমিকার মতো বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা ঘিরে যখন উত্তেজনা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তেহরান ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার জবাবে সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা থাকতে পারে।
ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত নতুন নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার ঘোষণা করার কথা রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এটি ইরানের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ হতে পারে।
ইরানকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আরও বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশ তেহরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সেই দেশকেও গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে।
অন্যদিকে, সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতেও। ওই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার দাবি সামনে এসেছে। তেহরান সতর্ক করেছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও তেলবাহী জাহাজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে আসিম মুনিরের তেহরান সফর শুধু পাকিস্তান-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, গোটা অঞ্চলে সংঘাত প্রশমন এবং নতুন করে আলোচনার পথ তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.