স্বাভাবিকের তুলনায় ৪১ শতাংশ কম বৃষ্টিতে উদ্বেগ বাড়ছে, গড়ওয়ায় ঘাটতি প্রায় ৮০ শতাংশ; ১৯ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস।
সকাল সকাল ডেস্ক।
চলতি বছরে ঝাড়খণ্ডে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি প্রত্যাশিত গতিতে হয়নি। ১ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪১ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির ঘাটতির কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এদিকে আবহাওয়া দফতর ১৯ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা জানিয়ে ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করেছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে রাজ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে দুমকা এবং সরাইকেলা-খরসাওয়ান জেলায়। দুমকায় স্বাভাবিক ৩৫৫.৪ মিলিমিটারের বিপরীতে ৩০০.১ মিলিমিটার এবং সরাইকেলা-খরসাওয়ানে স্বাভাবিক ৩৩৫.২ মিলিমিটারের তুলনায় ২৬৩.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২১ শতাংশ কম।
অন্যদিকে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি গড়ওয়া জেলায়। সেখানে স্বাভাবিক ২৭৬.৪ মিলিমিটারের পরিবর্তে মাত্র ৫৬.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ কম। ফলে গড়ওয়াই রাজ্যের সর্বাধিক বৃষ্টিঘাটতিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রাজধানী রাঁচিতেও এ পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বুধবার সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা ছিল এবং দুপুরের পর শহর ও সংলগ্ন এলাকায় হালকা বৃষ্টি হওয়ায় গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এই সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। তাই ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করে প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
বুধবার রাঁচিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৩.৯ ডিগ্রি। জামশেদপুরে সর্বোচ্চ ৩২.৪ ও সর্বনিম্ন ২৫ ডিগ্রি, ডালটনগঞ্জে সর্বোচ্চ ৩৫.৪ ও সর্বনিম্ন ২৬.৪ ডিগ্রি, বোকারোতে সর্বোচ্চ ৩২.১ ও সর্বনিম্ন ২৬.৫ ডিগ্রি এবং চাইবাসায় সর্বোচ্চ ৩৪.২ ও সর্বনিম্ন ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে রাজ্যের বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা পূরণ হবে এবং খরিফ ফসলের বপন-সহ কৃষিকাজে গতি আসবে।
No Comment! Be the first one.