যন্তর মন্তরে টানা ১৭ দিনের অনশনে অনড় সোনম ওয়াংচুক, আলোচনায় বসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান
সকাল সকাল ডেস্ক
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ১৭ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার আবেদন জানিয়েছেন শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তবে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়েছেন, দাবি পূরণে সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ না হলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন না।
অনশন ভাঙার আবেদন দুই বিরোধী নেতার
আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরে অনশন করছেন এবং তাঁর দাবিগুলিকে তাঁরা সমর্থন করেন। তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও তোলেন। পাশাপাশি জানান, বৃহস্পতিবার তিনি যন্তর মন্তরে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং ব্যক্তিগতভাবে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানাবেন।

অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরেও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সোনম ওয়াংচুককে স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।
নিজের সিদ্ধান্তে অনড় সোনম ওয়াংচুক
অনশন প্রত্যাহারের আবেদন প্রসঙ্গে সোনম ওয়াংচুক বলেন, তাঁকে অনশন ভাঙতে বলার পরিবর্তে সরকারের কাছে জানতে চাওয়া উচিত কেন তারা আলোচনার টেবিলে বসছে না। তাঁর বক্তব্য, দাবি পূরণের বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ না দেখা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়, বরং বৃহত্তর গণআন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থন
যন্তর মন্তর থেকে সংসদ পর্যন্ত আয়োজিত শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় সমর্থন জানিয়েছেন উদ্ধব ঠাকরে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আন্দোলনকারীরা দেশবাসীর কাছে সামাজিক মাধ্যমে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। সেই দাবিগুলি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়েই তিনি অনশন শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন জাতীয় স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
সাধারণ মানুষের জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ
দীর্ঘ অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও তিনি এখনও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। রাজনৈতিক মহলের আবেদন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হোক। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
No Comment! Be the first one.