সকাল সকাল ডেস্ক
জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, এখনও নিখোঁজ হাজারো মানুষ; পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন।
Venezuela Earthquake 2026-এর ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। গত মাসে আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪,১১৮-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১৬,৭৪০ জন, আর এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সরকারি কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় হতাহতের পরিসংখ্যান আরও বাড়তে পারে। উদ্ধার অভিযান কার্যত শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বহু পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছে।
ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বার্তায় সর্বশেষ হতাহতের তথ্য জানান। তাঁর মতে, ২৪ জুন মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিকে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Venezuela Earthquake 2026-এ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল। সেখানে বহু বহুতল আবাসন, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেতু এবং সরকারি অবকাঠামো ধসে পড়েছে। অনেক এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য, ওষুধ এবং নিরাপদ পানীয় জলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, প্রথম ভূমিকম্পে ভবনগুলোর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প সেই কাঠামো সম্পূর্ণ ধসিয়ে দেয়। ফলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

ভূমিকম্পের পর সেনাবাহিনী, দমকল, উদ্ধারকারী বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়। ভারী যন্ত্রপাতি, অনুসন্ধানী কুকুর এবং বিশেষ উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করে। তবে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় শেষ। সেই কারণে জীবিতদের উদ্ধারের অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। যদিও নিখোঁজ স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের আশায় অনেক পরিবার এখনও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলাকালীন রাজধানী কারাকাসে রিখটার স্কেলে ৩ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয়। এতে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি ভবন সাময়িকভাবে খালি করে দেওয়া হয়। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ভূমিকম্পের পর কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত আফটারশক অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।
আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতিসংঘ জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এই অর্থ ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা, অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং পুনর্বাসন কাজে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। একাধিক দেশ ইতিমধ্যে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, চিকিৎসক দল এবং উদ্ধার সরঞ্জাম পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিদেশে জব্দ সম্পদ ফেরত চায় সরকার
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ পুনর্গঠন কাজের জন্য অর্থ জোগাড়ে বিদেশে জব্দ থাকা দেশের সম্পদ মুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন।
তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ থাকা ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩০ টন সোনা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সম্পদ ফেরত পেলে তা সরাসরি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং জরুরি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যবহার করা হবে।
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট Venezuela Earthquake 2026-এর প্রভাবকে আরও গভীর করেছে। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সীমিত অবকাঠামোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আহতদের চিকিৎসায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতিসংঘ জরুরি ভিত্তিতে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার আন্তর্জাতিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। এই অর্থ ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা, অস্থায়ী আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং পুনর্বাসন কাজে ব্যবহার করা হবে। ইতিমধ্যেই একাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা জরুরি ত্রাণসামগ্রী, চিকিৎসক দল এবং উদ্ধার সরঞ্জাম পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এদিকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ পুনর্গঠন কাজের জন্য বিদেশে জব্দ থাকা দেশের সম্পদ মুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ থাকা প্রায় ৩০ টন সোনা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই সম্পদ ফেরত পাওয়া গেলে তা সরাসরি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং জরুরি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে ব্যয় করা হবে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
বিশেষজ্ঞদের মতে, Venezuela Earthquake 2026 শুধু প্রাণহানির ঘটনা নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়েছেন। তাই দ্রুত ত্রাণ, পুনর্বাসন, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই এখন ভেনেজুয়েলার সামনে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
No Comment! Be the first one.