সকাল সকাল ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে পাহাড়ধস, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় জনজীবন বিপর্যস্ত; রোহিঙ্গা শিবিরে মাদ্রাসা ধসে নিহত ৮, আহত একাধিক।
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণের জেরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক Bangladesh Landslide দুর্ঘটনা। উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের একটি কন্যাদের মাদ্রাসার ওপর পাহাড় ধসে পড়ায় অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাত জন ছাত্রী এবং একজন শিক্ষক রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক জন। একই সময়ে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, বন্যা এবং জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
Bangladesh Landslide: উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
বুধবার দুপুরে উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির-৫-এর এ-৩ ব্লকের একটি কন্যাদের মাদ্রাসায় পাঠদান চলাকালীন আচমকা পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে। মাটি ও পাথরের চাপে মাদ্রাসার একটি দেওয়াল ভেঙে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে শ্রেণিকক্ষ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
দুর্ঘটনার সময় কক্ষে প্রায় ৪০ জন ছাত্রী উপস্থিত ছিল। প্রবল আতঙ্কের মধ্যে প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে দমকল বাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে অভিযান চালায়।
দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানে উদ্ধার ১৩ জন
ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মোট ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে আট জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত পাঁচ জনকে দ্রুত কুতুপালং ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, চার জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চার জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের দুই বোন থাকায় শোকের আবহ আরও গভীর হয়েছে।

নিহত ও আহতদের পরিচয়
প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে চার জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তারা হলেন রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) এবং উমাইসা বিবি (১৩)।
আহতদের মধ্যে অসরা বেগম (৯), বেগম জান (১৫) এবং ফারেসা বিবি (১২)-এর চিকিৎসা চলছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ জন ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
কক্সবাজারজুড়ে বন্যা ও পাহাড়ধসে বাড়ছে বিপর্যয়
টানা বর্ষণের কারণে জেলার বিভিন্ন নদীর জলস্তর বেড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বহু নিচু এলাকায় জল ঢুকে পড়ায় অসংখ্য পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বিভিন্ন সড়ক জলমগ্ন হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত দু’দিনে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় উদ্ধারকারী দল এখনও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামেও একের পর এক প্রাণহানি
ভারী বর্ষণের প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম জেলাতেও। রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড়ধসে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। পাঁচলাইশ থানার রহমাননগরে দেওয়াল চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক যুবক।
এছাড়া সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় মাটি চাপা পড়ে ১০ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পাঁচলাইশের চশমা হিল এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছে ১২ বছরের এক কিশোরী। ফলে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
Background
বাংলাদেশের কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্ষাকালে পাহাড়ধস একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং অতিবৃষ্টির কারণে প্রতি বছরই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলিতে অস্থায়ী বসতি এবং পাহাড়ি ঢালে বসবাসের কারণে ঝুঁকি আরও বেশি।
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে হাজারো পরিবারের বসবাস
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শহরে মোট ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি সরকারি এবং ১০টি বেসরকারি মালিকানাধীন। এসব পাহাড়ের ঢালে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি পরিবার বসবাস করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পুনর্বাসন এবং পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।
Official Statement
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলিকে পাঁচটি নজরদারি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
Impact
এই Bangladesh Landslide দুর্ঘটনার ফলে রোহিঙ্গা শিবিরে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত হয়েছে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। উত্তাল সমুদ্রের কারণে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথেও ফেরি পরিষেবা স্থগিত রয়েছে।
Public Information
আবহাওয়া দফতর আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ি ঢাল, নদীতীর এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা পরিবারগুলির জন্য অস্থায়ী ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে এবং খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
Featured Snippet
প্রশ্ন: বাংলাদেশে পাহাড়ধসে কোথায় সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে?
উত্তর: কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের একটি কন্যাদের মাদ্রাসায় পাহাড়ধসে অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, পাহাড়ধস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
No Comment! Be the first one.