Baruipur Minor Case-কে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বারুইপুরের সূর্যপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক নেতা-নেত্রী তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন। যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক শিউলি সাহা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে ঘিরে ‘গদ্দার’ ও ‘চোর’ স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। Baruipur Minor Case ঘিরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
Baruipur Minor Case-এ বিদ্রোহী শিবিরকে ঘিরে বিক্ষোভ
Baruipur Minor Case-এর জেরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিদ্রোহী তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল সূর্যপুরে পৌঁছতেই ‘চোর-চোর’, ‘বালিশচাটা’সহ বিভিন্ন স্লোগান ওঠে।
পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বিধায়ক শিউলি সাহা। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, তাঁরাও অপরাধীদের কঠোর শাস্তি চান এবং নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই সেখানে এসেছেন। প্রথমদিকে পুলিশ প্রতিনিধি দলকে এগোতে বাধা দিলেও পরে অনুমতি দিলে তাঁরা নির্যাতিতার বাড়িতে যান।
সায়নী ঘোষকে ঘিরে ‘গদ্দার’ স্লোগান
Baruipur Minor Case-এর ঘটনায় যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষও বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়েন। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘গদ্দার’ স্লোগান দিতে শুরু করেন স্থানীয়দের একাংশ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ঘটনার তিন দিন পর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসার কোনও যৌক্তিকতা নেই। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আরও আগেই ঘটনাস্থলে আসা উচিত ছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই সায়নী ঘোষকে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।
কালীঘাট শিবিরের কটাক্ষ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরও বিদ্রোহী নেতাদের তীব্র কটাক্ষ করেছে। শিবিরের নেতাদের বক্তব্য, যাঁরা দল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন, তাঁদের প্রতি সাধারণ মানুষের এই প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক।
কালীঘাট শিবিরের কয়েকজন নেতা দাবি করেন, দলত্যাগকে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেননি। তাঁদের মতে, মানুষের এই ক্ষোভই বারুইপুরে প্রকাশ পেয়েছে।
রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই বিদ্রোহী শিবিরের নেতারা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান।
তবে স্থানীয় স্তরে তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। Baruipur Minor Case এখন শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার ঘটনা নয়, বরং রাজনৈতিক সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
মমতার অভিযোগ ও মুখ্যমন্ত্রীর সফর
বারুইপুর ইস্যুতে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্যাতিতার বাড়িতে যাওয়ার আগে তাঁকে পুলিশি নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে, কালীঘাট শিবিরের প্রতিনিধিরা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। একই সময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বারুইপুর সফরে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন এবং তদন্তের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন।
Background
বারুইপুরে এক নাবালিকার নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে দোষারোপ, প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং একাধিক প্রতিনিধি দলের সফর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

Impact
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তা, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও জনমনে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
Official Statement
বিদ্রোহী তৃণমূলের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সেখানে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, মানুষের ক্ষোভ দলত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধেই প্রকাশ পেয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Public Information
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে গুজব এড়িয়ে চলার এবং শুধুমাত্র সরকারি সূত্র বা পুলিশের যাচাইকৃত তথ্যের উপর নির্ভর করার আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
No Comment! Be the first one.