সকাল সকাল ডেস্ক
জাকার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর উপস্থিতিতে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ চুক্তি; প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ইস্পাত ও কৃষিক্ষেত্রেও একাধিক সমঝোতা।
ভারত তার প্রতিরক্ষা রপ্তানির ইতিহাসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল। BrahMos Missile Deal-এর মাধ্যমে এবার ইন্দোনেশিয়াকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক সুপারসনিক ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে ভারত। মঙ্গলবার জাকার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ান্তোর উপস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শুধু প্রতিরক্ষা নয়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইস্পাত শিল্প, কৃষি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই BrahMos Missile Deal শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত অবস্থানও আরও মজবুত করবে।
## BrahMos Missile Deal: জাকার্তায় ঐতিহাসিক চুক্তি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দু’দিনের ইন্দোনেশিয়া সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ দেশে এটি তাঁর প্রথম সফর।
জাকার্তার মেরদেকা প্রাসাদে রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ান্তো প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অব অনার, জাতীয় সঙ্গীত এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বড় অগ্রগতি
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে গঠিত ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মধ্যে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ান্তো জাকার্তার মেরদেকা প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১০টা ২২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কনভয় রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছায়। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বাহিনীর ১৭ জন কর্মকর্তা এবং ১২০ সদস্যের অশ্বারোহী বাহিনী মোতায়েন ছিল। রাষ্ট্রপতি ভবনের পশ্চিম দিকের প্রবেশদ্বারে দুই নেতা করমর্দন করেন, পরস্পরকে আলিঙ্গন করেন এবং পরে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় সঙ্গীতের সময় একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।
যদিও চুক্তির আর্থিক মূল্য কিংবা কতগুলি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলের মতে, এটি ভারতের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তিগুলির একটি।
প্রতিরক্ষা শিল্পে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়বে
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে ইন্দোনেশিয়ার বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা রিপাবলিককর্প এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেডের মধ্যে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি সংক্রান্ত আরেকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন, গবেষণা এবং প্রযুক্তি বিনিময়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতি ও শিল্পক্ষেত্রেও একাধিক সমঝোতা
প্রতিরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতেও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইস্পাত এবং কৃষিক্ষেত্রে সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া (সেল) এবং ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতাউ স্টিল যৌথভাবে স্টেইনলেস স্টিল স্ল্যাব উৎপাদনের প্রকল্প গড়ে তুলবে। এই প্রকল্প ভবিষ্যতে দুই দেশের শিল্প সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

নেতাদের বক্তব্য
ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ান্তো বলেন, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া ভারত মহাসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করবে। উন্মুক্ত ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গঠনে দুই দেশের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Background
ভারত গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। ফিলিপিন্সের পর এবার ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের কৌশলেও এই চুক্তির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
Impact
- ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে বড় সাফল্য।
- ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী।
- ভারত-ইন্দোনেশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন উচ্চতায়।
- ইস্পাত, কৃষি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি।
- সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার।
Official Statement
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সমুদ্র নিরাপত্তা, শান্তি এবং মুক্ত নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করবে।
রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ান্তো জানান, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
Public Information
পরবর্তী গন্তব্য: অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড
স্থান: জাকার্তা, ইন্দোনেশিয়া
প্রধান চুক্তি: BrahMos Missile Deal
অংশগ্রহণকারী: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো
অতিরিক্ত চুক্তি: সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কৃষি, ইস্পাত, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি
সফরের মেয়াদ: ২ দিন
No Comment! Be the first one.