সকাল সকাল ডেস্ক
১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে রাজ্য পরিচালনার অঙ্গীকার, বাম ও তৃণমূল আমলের ‘বঞ্চনা’ মুছে দেওয়ার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর।
Shyamaprasad Mookerjee 125th Birth Anniversary উপলক্ষে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন, বর্তমান রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের আদর্শ ও চিন্তাধারাকে ভিত্তি করেই পরিচালিত হবে। তাঁর দাবি, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের সময়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে উপেক্ষা করা হয়েছিল। সেই ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। Shyamaprasad Mookerjee 125th Birth Anniversary-এর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে একাধিক কর্মসূচিরও ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার মিত্র ইনস্টিটিউশনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠান শেষে সেখানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, অপরাধীদের যেমন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, তেমনই পরিস্থিতি উত্তপ্তকারী ‘ভোটহারা অতৃপ্ত আত্মাদের’ এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যা তারা ভাবতেও পারছে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরই তিনি নির্যাতিতা কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন এবং শোকগ্রস্ত পরিবারটি প্রশাসনের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি কালকেই ওর বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। ওর বাবা এই জঘন্যতম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। আমি তদন্তের মাঝপথে বিস্তারিত কিছু বলব না, তবে এটুকু নিশ্চিত করছি-পরিবার যেভাবে জাস্টিস চেয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা চেয়েছে, তার প্রত্যেকটি তাঁরা পাবেন। ওঁরা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন।’
রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ১২৫তম জন্মজয়ন্তী
মুখ্যমন্ত্রী জানান, Shyamaprasad Mookerjee 125th Birth Anniversary-কে স্মরণীয় করে রাখতে সোমবার বিকেল ৩টা থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলা, মহকুমা, ব্লক এবং পুরসভায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে কলকাতায়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সামাজিক মঞ্চেও ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা সভা, প্রদর্শনী এবং স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
১২৫ ফুট মূর্তির ভূমিপূজন করবেন অমিত শাহ
এই বিশেষ উপলক্ষে নিউটাউনের ইকোপার্ক সংলগ্ন এলাকায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ ফুট উচ্চতার মূর্তি নির্মাণের ভূমিপূজন কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ভূমিপূজন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। এরপর মিলন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত মূল সভায় বক্তব্য রাখারও কথা রয়েছে তাঁর।
সরকারের দাবি, এই মূর্তি ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে।

বাংলার ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার উল্লেখ
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, যদি সেই সময় এই উদ্যোগ না নেওয়া হত, তাহলে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্য ভিন্ন হতে পারত। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বাংলার মানুষকে এই ঐতিহাসিক সত্য জানানো এবং শ্যামাপ্রসাদের অবদান ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের।
আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ
বিদ্যালয় থেকে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে যেমন প্রতিদিন প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়, তেমনই ভবিষ্যতে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শও সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা এবং জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ
মুরলীধর সেন লেনের দলীয় অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভবানীপুরের ঐতিহ্যবাহী মিত্র ইনস্টিটিউশনে যান। উল্লেখ্য, ১৯০৬ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত এই বিদ্যালয়েই পড়াশোনা করেছিলেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।
এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তাপস রায়, রাহুল সিনহা, প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা।
রাজনৈতিক তাৎপর্য ও জনসাধারণের জন্য বার্তা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, Shyamaprasad Mookerjee 125th Birth Anniversary উপলক্ষে সরকারের এই ঘোষণা শুধুমাত্র একটি স্মরণানুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে রাজ্যের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক দর্শনেরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, আদর্শ ও অবদানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ব্যক্তিত্বদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
No Comment! Be the first one.