সকাল সকাল ডেস্ক।
অযোধ্যার সন্ত সমাজের দাবি, Champat Roy Resignation নিয়ে এসআইটি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ট্রাস্ট যেন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেয়।
অযোধ্যায় Champat Roy Resignation ঘিরে জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। শ্রী রামজন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের পদত্যাগপত্র জমা পড়ার পর বিষয়টি জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এরই মধ্যে অযোধ্যার সন্ত সমাজ প্রকাশ্যে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাস্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে, Champat Roy Resignation যেন এসআইটি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রহণ করা না হয়। তাঁদের দাবি, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তিকে দোষী ধরে নেওয়া ন্যায়সংগত হবে না।
শনিবার অযোধ্যার সন্ত সমাজের এক বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। সন্তদের বক্তব্য, রাম মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনও প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
৬ জুলাই ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
চম্পত রায় ইতিমধ্যেই তাঁর পদত্যাগপত্র ট্রাস্টের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ট্রাস্টের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
আরো খবর দেখতে আমাদের ফেসবুক পেজ –
আগামী ৬ জুলাই ট্রাস্টের সভাপতি মহন্ত নৃত্য গোপাল দাস মহারাজের সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠকেই Champat Roy Resignation নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই বৈঠকের দিকেই এখন নজর রয়েছে রামভক্ত, সন্ত সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট মহলের।
এসআইটি তদন্তের আগে সিদ্ধান্ত নয়
Champat Roy Resignation সাংবাদিক সম্মেলনে হিন্দু ধামের মহন্ত রাঘবেশ দাস বেদান্তী বলেন, রাম মন্দিরে দান করা অর্থের হিসাব নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার প্রকৃত সত্য শুধুমাত্র স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (এসআইটি)-এর তদন্তের মাধ্যমেই সামনে আসতে পারে।
তাঁর বক্তব্য, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে Champat Roy Resignation গ্রহণ করা হলে তা ভুল বার্তা দেবে। বরং তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পর প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাস্টের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ট্রাস্টের কাছে স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি
মহন্ত রাঘবেশ দাস বেদান্তী আরও বলেন, ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরির উচিত জনসাধারণের সামনে আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরা। তাঁর মতে, যদি মানুষের মনে কোনও প্রশ্ন বা সন্দেহ তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে ট্রাস্টের দায়িত্ব সেই সংশয় দূর করা।
সন্ত সমাজের মতে, স্বচ্ছতা বজায় রাখলে রামভক্তদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং অযথা বিতর্কও কমবে।
চম্পত রায়ের দীর্ঘদিনের অবদানের উল্লেখ
সন্ত সমাজের সদস্যরা চম্পত রায়ের দীর্ঘদিনের অবদানের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁদের বক্তব্য, তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে অযোধ্যায় থেকে রাম মন্দির আন্দোলন এবং মন্দির নির্মাণের কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
মহন্ত রাঘবেশ দাস বেদান্তীর দাবি, যিনি নিজেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাঁকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। রিপোর্ট প্রকাশের পর যদি কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তখন আইন ও ট্রাস্টের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
রামভক্তদের উদ্দেশে সন্ত সমাজের বার্তা
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত সন্তরা সমস্ত রামভক্তদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছেন, যেন কেউ গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হন।
তাঁদের বক্তব্য, রাম মন্দিরের দান সংক্রান্ত অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
পটভূমি
সম্প্রতি রাম মন্দিরের দান সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই চম্পত রায় তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা যায়। যদিও অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। এই কারণেই বিষয়টি নিয়ে ধর্মীয় মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে।
সরকারি অবস্থান
এখনও পর্যন্ত শ্রী রামজন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের পক্ষ থেকে চম্পত রায়ের পদত্যাগ গ্রহণের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। ৬ জুলাইয়ের বৈঠকের পর ট্রাস্টের অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে এসআইটি তদন্তের অগ্রগতির দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত সমাজ সকল ভক্তকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তাঁদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনও গুজব বা অসমর্থিত তথ্য বিশ্বাস না করাই উচিত। তদন্তের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
No Comment! Be the first one.