সকাল সকাল ডেস্ক
তেহরান/তেল আবিব : পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত চরমে। শনিবার ভোরে ইরান-এর একাধিক বেসামরিক ও পারমাণবিক কেন্দ্রে ইজরায়েল বিমান হামলা চালানোর পরই পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, “ইজরায়েল আগুন নিয়ে খেলছে, এর মূল্য চোকাতে হবে।”
এরপরই ইজরায়েলের আকাশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। মধ্য ইজরায়েলের একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই হামলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দক্ষিণ ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে আরও দু’জন আহত হন।
সে দেশের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগের দিনও একাধিক দফায় ইজরায়েলে হামলা চালায় ইরান। একটি হামলায় ক্লাস্টার বোমা বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, যার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছোট ছোট বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-র সহায়তায় ইজরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রগুলিতেও আঘাত হানে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইয়াজদ প্রদেশের আরদাকানে অবস্থিত ইয়েলোকেক প্ল্যান্ট এবং আরাকে অবস্থিত শাহিদ খন্দব হেভি ওয়াটার কমপ্লেক্সে হামলা হয়েছে। যদিও ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, এই হামলায় কোনও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়নি এবং হতাহতের খবরও নেই।
এই ঘটনার জেরে গোটা পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাল্টা জবাবে ইরান তেল আবিব ও ডিমোনা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা আমেরিকার ছ’টি সামরিক জাহাজকেও নিশানা করেছে। তাদের বক্তব্য, এই হামলায় তিনটি জাহাজ ডুবে গেছে এবং বাকি তিনটিতে আগুন লেগেছে। তবে এই দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বিভিন্ন দেশ ও কূটনৈতিক মহল।
No Comment! Be the first one.