বেলুচ লিবারেশন আর্মির দখলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একাধিক শিবির

সকাল সকাল ডেস্ক

কোয়েটা (বেলুচিস্তান)। পাকিস্তানের অশান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তানে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র যোদ্ধারা তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একাধিক শিবির ও চৌকি দখল করে নিয়েছে। এদিকে, ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিএলএ-র ‘অপারেশন হিরো’-র প্রেক্ষিতে প্রদেশজুড়ে যোগাযোগ পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। সরকার রেল ও বাস পরিষেবাও স্থগিত করেছে।

‘দ্য বেলুচিস্তান পোস্ট’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ নুস্কি জেলার আহমদওয়াল এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শিবিরসহ একাধিক চৌকি দখল করেছে বেলুচ লিবারেশন আর্মি। আহমদওয়াল নুস্কি শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া নুস্কি থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূরে গুলগৌর এলাকায় থাকা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি চৌকিও নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। বিএলএ যোদ্ধারা সেনাবাহিনীর সমস্ত অস্ত্র ও যুদ্ধসরঞ্জাম দখলে নিয়েছে।

বিএলএ নুস্কিসহ মোট ১২টি শহরে একযোগে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শিবির ও চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। নুস্কি শহরের উপকণ্ঠে বিএলএ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে এখনও গুলিবিনিময় চলছে। পাকিস্তান রেলওয়ে বিভাগ কোয়েটা থেকে চমন পর্যন্ত চলাচলকারী অভ্যন্তরীণ রেল পরিষেবা স্থগিত করার ঘোষণা করেছে। বিভাগ জানিয়েছে, করাচি থেকে কোয়েটাগামী ‘বোলান মেল’ ট্রেন পরিষেবা ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, বেলুচিস্তান থেকে ইন্দৌর মালিক ও চমন পর্যন্ত ট্রেন পরিষেবা স্থগিত থাকার ফলে বিভাগটির ৩০ লক্ষ বেশি ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, পাঞ্জাবকে বেলুচিস্তানের সঙ্গে যুক্তকারী ডি.আই. খান–লোরালাই জাতীয় সড়ক এবং কোয়েটা থেকে তাফতানগামী জাতীয় সড়কও পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্য একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মঙ্গলবার বেলুচিস্তানে সংঘটিত সাম্প্রতিক হামলাগুলির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এই ঘৃণ্য সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের অপরাধী, পরিকল্পনাকারী, অর্থ জোগানদাতা ও মদতদাতাদের জবাবদিহির আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন।

Read More News

Read More