সকাল-সকাল ডেস্ক
রোম (ইতালি)। বিশ্বখ্যাত ইতালীয় ফ্যাশন ডিজাইনার ভ্যালেন্তিনো গারাভানি ৯৩ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। বিংশ শতাব্দীর ফ্যাশন জগতের ‘বেতাজ বাদশাহ’ হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। নিজের নামেই গড়ে তোলা ফ্যাশন হাউসের মাধ্যমে ইতালীয় গ্ল্যামারকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সোমবার ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতিতে ভ্যালেন্তিনোর ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, “ভ্যালেন্তিনো গারাভানি আজ রোমে নিজের বাড়িতে প্রিয়জনদের মাঝে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।”
‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার রোমে ফাউন্ডেশনের সদর দপ্তরে ভ্যালেন্তিনোর মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। শুক্রবার ইতালির রাজধানী রোমেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এক্স-এ শোকবার্তায় লিখেছেন, “ভ্যালেন্তিনো—স্টাইল ও এলিগ্যান্সের অবিসংবাদিত গুরু এবং ইতালীয় হাই ফ্যাশনের চিরন্তন প্রতীক। আজ ইতালি এক কিংবদন্তিকে হারাল। তাঁর উত্তরাধিকার প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
শুধু ‘ভ্যালেন্তিনো’ নামেই পরিচিত এই ডিজাইনার ১৯৫৯ সালে নিজের ফ্যাশন হাউস প্রতিষ্ঠা করেন। খুব দ্রুতই সোফিয়া লরেন ও এলিজাবেথ টেলরের মতো তারকারা তাঁর অনুরাগীতে পরিণত হন। ১৯৬১ সালে মাইকেলেঞ্জেলো আন্তোনিওনির ছবি লা নোতে-তে অভিনেত্রী মনিকা ভিত্ত্তির পোশাক ডিজাইন করেন তিনি। ষাটের দশকে বহু বছর ধরে জ্যাকি কেনেডি তাঁর তৈরি পোশাক পরতেন। জ্যাকি কেনেডি ১৯৬৮ সালে অ্যারিস্টটল ওনাসিসকে বিয়ে করেন।
লাল রঙের পোশাক ছিল ভ্যালেন্তিনোর স্বাক্ষরধর্মী নকশা, যা শুরু থেকেই তাঁর স্টাইলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর প্রথম কালেকশনে ‘ফিয়েস্তা’ নামে একটি লাল টিউলের ড্রেস ছিল। পোশাকে ব্যবহৃত ভ্যালেন্তিনোর লাল রঙের বিশেষ শেড এতটাই জনপ্রিয় হয় যে রঙের আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষ প্যানটোন সেটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
প্রায় ৪৫ বছর ধরে ফ্যাশন জগতের শীর্ষে ছিলেন ভ্যালেন্তিনো। ২০০৭ সালে তিনি অবসর নেন। নাওমি ক্যাম্পবেল ও ক্লডিয়া শিফারের মতো সুপারমডেলদের প্রায়ই ক্যাটওয়াকের বাইরে তাঁর পোশাকে দেখা যেত। জুলিয়া রবার্টস, লরা লিনি ও পেনেলোপ ক্রুজের মতো অভিনেত্রীরা রেড কার্পেটে ভ্যালেন্তিনোর ডিজাইন করা পোশাক পরতেন। ওয়েলসের রাজকুমারী ডায়ানা বিবাহবিচ্ছেদের পরের বছরগুলোতে তাঁর নকশা করা পোশাক পরিধান করেছিলেন।
১৯৩২ সালে মিলানের কাছে ভোগেরা শহরে ভ্যালেন্তিনোর জন্ম। তাঁর মা ইতালীয় অভিনেতা রুডলফ ভ্যালেন্তিনোর নাম অনুসারে তাঁর নাম রাখেন। শৈশবের অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতে তাঁর কর্মজীবনকে গড়ে দেয়। ভ্যালেন্তিনো সবসময় নিখুঁত স্যুটে পরিপাটি ও মার্জিত চেহারায় নিজেকে উপস্থাপন করতেন।
No Comment! Be the first one.