সকাল সকাল ডেস্ক
ঢাকা। ভারতের বিরুদ্ধে লাগাতার বিতর্কিত মন্তব্য করে আসা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-র পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে ঘিরে এবার তাঁর নিজের দেশের ক্রিকেটাররাই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে খেলোয়াড়রা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—তিনি পদত্যাগ না করলে সমস্ত ক্রিকেট কার্যকলাপ স্থগিত করে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স অর্গানাইজেশন (সিওএবি)-র সভাপতি মহম্মদ মিথুন বলেন, জাতীয় ক্রিকেটারদের সম্পর্কে নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা ট্রিবিউন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সিডব্লিউএবি)-র বুধবার দুপুরে অনুষ্ঠিত জরুরি অনলাইন সাংবাদিক সম্মেলনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, সেখানে খেলোয়াড়দের প্রতিনিধি ও সিনিয়র ক্রিকেটার মহম্মদ মিথুন স্পষ্ট জানান যে এম নাজমুল ইসলামের বক্তব্য এখন সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় নির্ধারিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ম্যাচের আগেই নাজমুল ইসলামকে পদত্যাগ করতে হবে। তা না হলে সমস্ত ক্রীড়া কার্যকলাপ স্থগিত করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, বাংলাদেশ যদি আইসিসি মেন্স টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশ না-ও নেয়, তাতে বোর্ডের নয়, কেবল খেলোয়াড়দেরই আর্থিক ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়দের এই ক্ষতির জন্য বোর্ড কোনও ক্ষতিপূরণ দেবে না। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিসিবি সর্বাগ্রে জাতীয় স্বার্থ ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেবে।
সিডব্লিউএবি এই মন্তব্যকে খেলোয়াড়দের মনোবল ভাঙার চেষ্টা বলে অভিহিত করে। সংগঠনের সভাপতি মহম্মদ মিথুন বলেন, “বোর্ড পরিচালকের কথাবার্তা খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। আমরা বহুবার চুপ থেকেছি, কিন্তু এবার সীমা ছাড়িয়েছে। কয়েক মাস ধরেই খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। যদি ১৫ জানুয়ারির বিপিএল ম্যাচের আগে নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা গোটা দেশের ক্রিকেট কার্যকলাপ বয়কট করব।”
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই সংকটের সূচনা হয়, যখন আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে ছেড়ে দেয়। এর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে আবেদন জানায়, টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারত সফর না করে ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার জন্য। তবে আইসিসি এই দাবি খারিজ করে জানায়, এত অল্প সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয়।
এই বিতর্কে বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক তামিম ইকবাল বোর্ডকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার বদলে দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, বোর্ডের আয়ের বড় অংশই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকে আসে। এর পর নাজমুল একটি ফেসবুক পোস্টে তামিম ইকবালকে “ভারতীয় এজেন্ট” বলে কটাক্ষ করে লেখেন, দেশ “আরও এক প্রমাণিত ভারতীয় এজেন্টকে উত্থান ঘটাতে দেখেছে।”
তামিম ইকবালকে নিয়ে নাজমুলের এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন বাংলাদেশের বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রগতির পক্ষে ক্ষতিকর। দলের স্পিনার তাইজুল ইসলাম তামিমের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভাষাকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা ও জবাবদিহির দাবি জানান। প্রাক্তন টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক এই মন্তব্যকে গোটা দেশের ক্রিকেট মহলের প্রতি অপমান বলে উল্লেখ করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর নাজমুল আরও একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ওই মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মতামত ছিল এবং অন্য কোনও অর্থে তা নেওয়া উচিত নয়। তবে এই ব্যাখ্যায় সমালোচনা থামেনি।
No Comment! Be the first one.