ইরানে খামেনেই-বিরোধী বিদ্রোহ, পবিত্র শহর মাশহাদে নামানো হল পতাকা; ইরানি বালুচ গোষ্ঠীর সমর্থন

সকাল সকাল ডেস্ক

তেহরান/ওয়াশিংটনে। ইরানে গত ১০ দিন ধরে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন সামাল দেওয়া ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনতা সরাসরি সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেমেছে। দক্ষিণ ইরানের এক শহরে নিরাপত্তা বাহিনী আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে সামনে থেকে গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ। কুমের পর দ্বিতীয় পবিত্র শহর মাশহাদেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ক্ষুব্ধ জনতা সেখানে উঁচু ও বিশাল জাতীয় পতাকা নামিয়ে দিয়েছে। খোরাসান প্রদেশে একটি গভর্নর হাউস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় খামেনেই-বিরোধী স্লোগান উঠেছে।

এদিকে আমেরিকা সতর্ক করেছে, আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো বন্ধ না হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ প্রকাশিত ভিডিওর ভিত্তিতে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক ঘটনার উল্লেখ করেছে।

দক্ষিণ ইরানে গুলি চালানোর অভিযোগ
একটি ভিডিও অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ইরানের বুশেহর প্রদেশের কঙ্গানে বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালায়। একই সময়ে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে আন্দোলনকারীরা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পতাকা নামিয়ে দেয়।

গভর্নরের দফতরে অগ্নিসংযোগ
‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এ পাঠানো আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তর-পূর্ব ইরানের নর্থ খোরাসান প্রদেশের আশখানেহ শহরে মানেহ ও সামালকান জেলার গভর্নরের দফতরের ভবন বুধবার সন্ধ্যায় আগুনে পুড়ে যায়। এরই মধ্যে ইরানের বালুচ রাজনৈতিক সংগঠন ‘বালুচিস্তান পিপলস পার্টি’ দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশের জনগণকে দেশব্যাপী আন্দোলন ও ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, “দেশজুড়ে আন্দোলন ও ধর্মঘটে সক্রিয় অংশগ্রহণ কোনো রাজনৈতিক বিকল্প নয়, বরং স্বাধীনতা, ন্যায় ও সম্মানজনক জীবনের জন্য এক ঐতিহাসিক প্রয়োজন।”

নির্বাসিত রাজপুত্রের আহ্বান
পশ্চিম ইরানেও আন্দোলনকারীরা খামেনেই-বিরোধী স্লোগান দিয়েছে। ভিডিও অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় ইলাম প্রদেশে মানুষ রাস্তায় নেমে ‘খামেনেই মুর্দাবাদ’ ধ্বনি তোলে। এদিকে নির্বাসিত রাজপুত্র রেজা পাহলভি ইন্টারনেট বন্ধের হুমকির মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক্স-এ পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি শাসকগোষ্ঠী ভীষণ ভয় পেয়েছে এবং আবার ইন্টারনেট বন্ধ করার চেষ্টা করছে। জেনে রাখুন, আমাদের যোগাযোগ বন্ধ হবে না—প্রয়োজনে ইরানে লক্ষ লক্ষ স্টারলিংক ডিভাইস পাঠানো হবে।” বিদ্রোহের জন্য তিনি প্রতিটি ইরানিকে ধন্যবাদ জানান।

আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তেহরানের
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্দোলন নিয়ে আমেরিকার মন্তব্যকে “হস্তক্ষেপমূলক” এবং “অশান্তি উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিহিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি অর্থনৈতিক দুরবস্থার জন্য বড় অংশে আমেরিকাকেই দায়ী করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব সবার
রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান কর্মকর্তাদের ও শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব সবার। তিনি জানান, তাঁর প্রশাসন ও মজলিস—উভয়ই সেই ব্যর্থতার জন্য দায়ী, যার ফলে অশান্তি ছড়িয়েছে। লক্ষণীয়, সরকারি বিবৃতিতে সুপ্রিম লিডার খামেনেইয়ের ভূমিকার উল্লেখ নেই। তবে একমাত্র হস্তক্ষেপে খামেনেই কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা খামেনেইকেই প্রধান লক্ষ্য করে সামরিক দুঃসাহস ও আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীতে অর্থ জুগিয়ে দেশকে দেউলিয়া করার অভিযোগ তুলেছে।

হোয়াইট হাউসের সতর্কবার্তা
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বুধবার বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে শক্তি প্রয়োগ করে দমন করার চেষ্টা করে, তবে পরিণতি খুবই খারাপ হবে। তাঁর কথায়, “রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট করেছেন—শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালালে ফল ভয়াবহ হবে।” তিনি যোগ করেন, অপারেশন ‘মিডনাইট হ্যামার’ ও ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ দেখিয়ে দিয়েছে, প্রেসিডেন্ট যা বলেন, তা করেই দেখান। উল্লেখ্য, গত দশ দিনে সংঘর্ষে অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে—এর মধ্যে ৩৪ জন আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর দু’জন সদস্য। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে।

Read More News

টাটা–বক্সার–টাটা হোলি স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল কর্তৃপক্ষ, যাত্রীদের মিলবে অতিরিক্ত স্বস্তি

সকাল সকাল ডেস্ক পূর্ব সিংভূম : হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে ঝাড়খণ্ডের...

Read More