মিয়ানমারে প্রতারণার আখড়ায় পরিণত সাইবার ক্যাফে, গ্রেফতার ৩৪৬ বিদেশি নাগরিক

সকাল সকাল ডেস্ক

নেপিদো (মিয়ানমার)। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী থাই সীমান্তের কাছে একটি সাইবার ক্যাফেতে অভিযান চালিয়ে ৩৪৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। সেনাবাহিনীর দাবি, গৃহযুদ্ধের কবলে থাকা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে এমন প্রতারণা কেন্দ্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব কেন্দ্রে বসে সাইবার অপরাধীরা বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের টার্গেট করছে—কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, কাউকে টাকা দ্বিগুণ করার লোভ দেখিয়ে প্রতারণা করছে। বছরে এসব প্রতারক চক্র কয়েক বিলিয়ন ডলারের ঠকবাজি চালাচ্ছে।

বাংলাদেশের দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার মিয়ানমারের সরকারি সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার-এর বরাত দিয়ে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকার চোখ বন্ধ করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের চাপে মিয়ানমার সরকার ফেব্রুয়ারি থেকে এ ধরনের অভিযান চালানোর প্রচার শুরু করেছে এবং গত মাস থেকে তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানায়, গতকাল ভোরে প্রতারণা ও জুয়ার বড় ঘাঁটি শ্বে কোক্কো এলাকায় সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। সেখানে ৩৪৬ জন বিদেশিকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ হাজার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধবিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকেই সীমান্ত এলাকা সাইবার অপরাধীদের “উর্বর ক্ষেত্র” হয়ে উঠেছে। অনেক সরল-সহজ মানুষকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অন্য দেশ থেকে মিয়ানমারে আনা হয় এবং এ ধরনের চক্রে জড়িয়ে ফেলা হয়।

এই বিশাল সাইবার প্রতারণা নেটওয়ার্কের বড় অংশ পরিচালনা করে চীনা–কম্বোডীয় র‌্যাকেটিয়ার শি ঝিজিয়াং-এর ইয়াতাই ফার্ম। এই ফার্ম শ্বে কোক্কো এলাকায় সক্রিয়। ২০২২ সালে থাইল্যান্ডে গ্রেফতার হওয়া শি ঝিজিয়াং-কে গত সপ্তাহেই চীনে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। সেখানে তার বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। ব্রিটেন ও আমেরিকা ইতিমধ্যেই শি ও তার কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। থাই-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত শ্বে কোক্কো গ্রাম এখন জুয়া, মাদক পাচার, দেহব্যবসা ও প্রতারণার সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে কুখ্যাত।

মিয়ানমারের সামরিক সরকার এই গ্রামের ৬০০-র বেশি ভবন ভাঙার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭,০০০ সাইবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ার মানুষকে টার্গেট করে ৩৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতারণা করা হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমার থেকে ৩১৭ বিদেশিকে তাদের নিজ নিজ সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানায়, এদের মধ্যে ২৬৯ জন ভারতীয়, ৩১ জন লাওস নাগরিক, ১৬ জন ভিয়েতনামী এবং একজন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক রয়েছে। এরা সবাই অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করে লুকিয়ে লুকিয়ে শ্বে কোক্কো গ্রামে পৌঁছেছিল। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মিয়ানমার–থাইল্যান্ড মৈত্রী সেতু-২-এর মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

Read More News

টাটা–বক্সার–টাটা হোলি স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল কর্তৃপক্ষ, যাত্রীদের মিলবে অতিরিক্ত স্বস্তি

সকাল সকাল ডেস্ক পূর্ব সিংভূম : হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে ঝাড়খণ্ডের...

Read More