সকাল সকাল ডেস্ক
লিসবন (পর্তুগাল)। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বুধবার সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক গ্লোরিয়া এলিভেটর (টুরিস্ট ট্রেন) দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ১৮ জন আহত হয়েছেন। দেশে আজ জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এটিকে পর্তুগালের ইতিহাসের ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা বলা হচ্ছে।
, জাতীয় জরুরি চিকিৎসা সংস্থা (আইএনইএম) জানিয়েছে লিসবনে গ্লোরিয়া এলিভেটর লাইনচ্যুত হওয়ার ফলে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আইএনইএম-এর ইভেন্ট পরিকল্পনা, রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও সংকট ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রধান তিয়াগো অগুস্তো জানান, দুর্ঘটনায় ১৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে।
অগুস্তো জানিয়েছেন, দমকল বিভাগ আটটি যান ও ৩৪ জন কর্মী ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিল। আহতদের সান্তা মারিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই দুর্ঘটনার কারণে টুরিস্ট ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। গ্লোরিয়া এলিভেটরের পরিচালনায় রয়েছে ক্যারিস কোম্পানি। এই এলিভেটর রেস্টোরাদোরেসকে বারো অল্টো অঞ্চলের জার্ডিম দে সাও পেদ্রো দে আলকান্তারার সঙ্গে যুক্ত করে। প্রায় ২৬৫ মিটার দীর্ঘ এই লাইনটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
গ্লোরিয়া এলিভেটর রেস্টোরাদোরেস স্কোয়ার ও আভেনিদা দা লিবেরদাদ থেকে খাড়া পাহাড় বেয়ে বারো অল্টো অঞ্চলের মনোরম দৃশ্য পর্যন্ত যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়। লিসবন ফায়ার ফাইটারস রেজিমেন্ট জানিয়েছে, সন্ধ্যা ছ’টার পর একটি কেব্লে প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয় এবং গ্লোরিয়া এলিভেটর একটি ভবনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। অগুস্তো আরও বলেন, মৃতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
লিসবনের মেয়র কার্লোস মোয়েদাস জানান, রাত সাড়ে আটটার মধ্যে সব আহত ও মৃতদের হাসপাতাল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “লিসবন শোকে নিমজ্জিত। এটি শহরের জন্য এক দুঃখজনক মুহূর্ত।” পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি মার্সেলো রেবেলো দে সুসা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
No Comment! Be the first one.