সকাল সকাল ডেস্ক।
গুমলা (ঝাড়খণ্ড): “শিক্ষা যদি সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত না থাকে, তবে তা সমাজ গঠনে যথার্থ ভূমিকা রাখতে পারে না। শিক্ষা ও সংস্কারের সমন্বয়েই একটি উন্নত ও সুসংগঠিত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।” — এ কথা বললেন মাননীয় রাজ্যপাল শ্রী সান্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার।
শনিবার গুমলা জেলার রায়ডিহ প্রখণ্ডের অন্তর্গত ভালমণ্ডা গ্রামের বিনদেশ্বরী লাল সাহু সরস্বতী শিশু বিদ্যা মন্দিরে নবনির্মিত বালিকা ছাত্রাবাস (সরস্বতীধাম)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
আদিবাসী কন্যাশিক্ষায় নতুন দিশা
রাজ্যপাল বলেন, “এই আবাসন শুধু একটি ভবন নয়, বরং এটি আদিবাসী ও গ্রামীণ অঞ্চলের মেয়েদের স্বনির্ভরতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ গড়ার মঞ্চ হয়ে উঠবে।”
এই ২৩৬তম সরস্বতীধাম নির্মাণে সহায়তাকারী গুজরাটের সুরতের মাতুশ্রী কাশীবা হরিভাই গোটী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট-কে তিনি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান।
আলবার্ট এক্কার স্মরণ
রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে ভারতের বীর সন্তান পরমবীর চক্র প্রাপ্ত শহীদ ল্যান্সনায়েক আলবার্ট এক্কা-কে শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “ঝাড়খণ্ডের মাটির সন্তান আলবার্ট এক্কার আত্মবলিদান আমাদের গর্বিত করে, তাঁকে আমরা কুর্নিশ জানাই।”
সমাজ গড়তে শিক্ষার সঙ্গে প্রয়াসের প্রয়োজন
রাজ্যপাল উল্লেখ করেন, বিদ্যা বিকাশ সমিতি, ঝাড়খণ্ড-এর ভূমিকাও। রাজ্যের দূরবর্তী ও আদিবাসী অঞ্চলে বহু বছর ধরে এই সংগঠন শিক্ষা, সংস্কার ও সামাজিক সচেতনতার প্রসারে নিরলস কাজ করে চলেছে। সম্প্রতি তিনি নগড়ি কুডলুঙ্গে সংগঠনের একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাদের কাজ কাছ থেকে দেখেছেন বলেও জানান।
“বেটি পড়ে, দেশ এগোয়”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “বেটি পড়ে, দেশ এগোয়” দর্শনের উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, “ঝাড়খণ্ডে একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা আদিবাসী মেধার বিকাশে সহায়ক হবে।”
সহযোগিতার দৃষ্টান্ত
মুম্বইয়ের সুমন রমেশ তুলসিয়ানি ট্রাস্ট ছাত্রদের জন্য দু’টি বাস উপহার দিয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। রাজ্যপাল বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠনগুলির এমন ভূমিকা ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণার।”
চূড়ান্ত বার্তা
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে রাজ্যপাল বলেন, “যে শিক্ষা মূল্যবোধ শেখায় এবং যে সংস্কার সমাজকে দিশা দেখায়— তাই সত্যিকারের শিক্ষা। এই ছাত্রাবাস সেই চিন্তার প্রতিফলন। এটি শুধু একটি আবাসিক ভবন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ, আত্মনির্ভরতা ও জাতি গঠনের কেন্দ্র হয়ে উঠুক— এটাই কামনা।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিদ্যা বিকাশ সমিতির সদস্য, শিক্ষক, অভিভাবক, সমাজকর্মী ও গ্রামবাসীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
No Comment! Be the first one.