শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের তিথিপূজা এবং স্বামী বিবেকানন্দ ত্রিশূল সেবা প্রকল্পের সূচনা

সকাল সকাল ডেস্ক

শেফালী মাহাত, পুরুলিয়া

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলার বরাবাজার থানার ধেলাতবামু গ্রাম। এই গ্রামে ” স্বামী বিবেকানন্দ ত্রিশূল সেবা”নামে এক প্রকল্পের সূচনা হচ্ছে। শ্রী শ্রী ঠাকুর মা স্বামীজির আদর্শে পরিচালিত ” স্বামী বিবেকানন্দ ত্রিশূল সেবা ট্রাস্ট ” নামক এক সংগঠন এই প্রকল্প ধেলাতবামু ও গোঁসাইডি এই দুটি গ্রামে গ্রহণ করেছেন। এই প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে আছে ” প্রাণকৃষ্ণ পাণ্ডে মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ” নামে একটি এন জি ও।
স্বামী বিবেকানন্দের আবির্ভাব দিবস ১২ জানুয়ারি ২০২৬ এই প্রকল্পের ঘোষণা হয় ধেলাতবামু গ্রামের কালীমন্দির প্রাঙ্গনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে । ঐদিন ঠাকুর মা স্বামীজিকে স্মরণ করে এই প্রকল্প ঘোষণা করেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক এবং রামকৃষ্ণ ভাবানুরাগী ও শ্রীমৎ স্বামী ঈশাত্মানন্দজী মহারাজের ভারতীয় প্রতিনিধি শ্রী অনুপ পান। ঐদিন শ্রী শ্রী ঠাকুর মা স্বামীজির বিশেষ পূজা , কীর্তন সহযোগে গ্রাম পরিক্রমা এবং মহিলা ও যুব সমাবেশ আয়োজিত হয়। শ্রী অনুপ পান মহাশয়ের সঙ্গে আরো কয়েকজন শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্ত ও অনুরাগী ঐদিন গ্রামে আসেন। ঐ গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে একটি করে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরাবাজার ব্লকের বি ডি ও শ্রী সমিত রঞ্জন মণ্ডল,বরাবাজার ব্লকের প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন আধিকারিক , পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাক্তন ডি এস পি শ্রী অসিত কুমার পাণ্ডে , সমাজসেবী ও সাংবাদিক শ্রী বংশীধর সিংহ সহ আরো অনেক।
ঐদিন “সারদাবাহিনী ” ও ” বিবেকবাহিনী” র যুবক যুবতীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন শ্রী অনুপ পান সহ অন্যান্যরা। তাঁদের কাছ থেকে তাঁদের চাহিদা , সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। গ্রামবাসীদের সঙ্গে ও আলোচনা করা হয়। যুবক যুবতী সহ গ্রামবাসীদের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে।
আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে ,
১) এলাকায় সেচ ব্যবস্থার জন্য গভীর নলকূপ
২) পশুপালন ( ছাগল )।
৩) হাঁস পালন ।
৪) সেলাই প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন এবং বিপনন।
৫) মাশরুম চাষ ( উৎপাদন ও‌ বিপন্ন)।
৬) ধূপবাতি ( উৎপাদন ও বিপনন)।
৭) অর্গানিক সাবান ( উৎপাদন ও বিপনন)।
৮) হ্যান্ড কার্ফ্ট ( উৎপাদন ও বিপনন)

সেই সঙ্গে যুবক যুবতীদের জন্য – ১) ক্রিকেট ,২) ফুটবল ,৩) ভলিবল ,৪) তীরন্দাজী ইত্যাদি উপকরণ সরবরাহ সহ প্রশিক্ষণ এবং খেলার ব্যবস্থা।
পুলিশ ও মিলিটারি পরীক্ষার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। অন্যান্য পরীক্ষায় প্রস্তুতি র জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ইত্যাদি গ্রহণ করা হবে।
ঐ আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি কার্যকরী করার জন্য আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ধেলাতবামু কালীমন্দির প্রাঙ্গনে ” শ্রী রামকৃষ্ণদেবের তিথি পূজা র,” মধ্যদিয়ে ঐ দিন সমস্ত যুবক যুবতীদের হাতে খেলার সরঞ্জাম তুলে‌ দেওয়া এবং উল্লিখিত প্রশিক্ষণগুলির শুভারম্ভ হবে।
রূপায়ণকারী সংস্থা ” প্রাণকৃষ্ণ পাণ্ডে মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ” এর সভাপতি শ্রী রবীন পাণ্ডে জানালেন ঐদিন শ্রী রামকৃষ্ণদেবের বিশেষ পূজাপাঠ হোম এবং ” স্বামী বিবেকানন্দ ত্রিশূল সেবা প্রকল্পের ” সূচনা করা হবে। ঐদিন ও শ্রী অনুপ পান সহ ” স্বামী বিবেকানন্দে ত্রিশূল সেবা ট্রাস্ট ” এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।ঐদিন গ্রামের মানুষজনের জন্য ” নরনারায়ণ সেবা ” আয়োজন থাকবে । রবীন পাণ্ডে বলেন যে , গোঁসাইডি এবং ধেলাতবামু গ্রামের মানুষের শিক্ষা , স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন তাঁদের লক্ষ্য । তিনি বলেন , শ্রী শ্রী ঠাকুর মা স্বামীজির কৃপায় এই গ্রামের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

Read More News

Read More