সকাল সকাল ডেস্ক
ইস্তানবুল: পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের তরফে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) এবং কাতারের দিকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এই দেশগুলির বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করে নস্যাৎ করে দিয়েছে। কাতারের দাবি, ইরানের পাঠানো ১০টি ড্রোনের মধ্যে ৯টি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। বাকি একটি নির্জন এলাকায় পড়ে যায় এবং তাতে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ইরান দেশের উপর ১০টি ড্রোন হামলা চালায়। এর মধ্যে ৯টি ড্রোনকে আকাশেই নিষ্ক্রিয় করে দেয় বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একটি ড্রোন দূরবর্তী নির্জন এলাকায় পড়ে যায়। এই ঘটনায় কোনও ধরনের প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কাতারের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ সক্ষম। পাশাপাশি নাগরিক ও বিদেশিদের শান্ত থাকার এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, আল-খারজে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি শাইবা তেলক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে আসা ছয়টি ড্রোনও গুলি করে নামিয়ে দেওয়া হয়। এর আগেও রিয়াদের পূর্ব দিকে একটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছিল।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হুমকির বিরুদ্ধে তাদের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লাগাতার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই দুবাইয়ে বিমান চলাচলও প্রভাবিত হয়েছে। এয়ারলাইন ট্র্যাকার ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দুবাইগামী একাধিক বিমান বিমানবন্দরের উপর আকাশে হোল্ডিং প্যাটার্নে ঘুরতে থাকে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে দ্বিতীয়বার সতর্কতা সাইরেন বাজানো হয়েছে।
এদিকে কাতারের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সমন্বয়ে সীমিত পরিসরে আবার বিমান চলাচল শুরু করা হচ্ছে। এই পর্যায়ে যাত্রীদের সরিয়ে নিতে কিছু নির্দিষ্ট উড়ান পরিচালিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলার তীব্রতা কম হলেও এমন কিছু ঘটনা বিশ্ব তেলবাজার, আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ইজরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই দেশগুলির বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কিছু হামলায় বন্দর ও আবাসিক ভবনের মতো বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে।
তেহরানের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হচ্ছে।
No Comment! Be the first one.