বোমাতঙ্ক স্তব্ধ দুর্গাপুর আদালত, খালি করা হলো আদালত ভবন
সকাল সকাল ডেস্ক সোমনাথ গুপ্ত , দুর্গাপুরঅন্যান্য দিনের মতোই মঙ্গলবার সকালে স্বাভাবিক ছন্দেই চলছিল আদালতের কাজকর্ম। বিচারক এজলাসে, আইনজীবীরা ব্যস্ত মামলার প্রস্তুতিতে, আর ন্যায়বিচারের আশায় সাধারণ মানুষ অপেক্ষায়— ঠিক সেই সময় আচমকাই ছন্দপতন। সকাল প্রায় ১১টা ৩০ মিনিট নাগাদ আসানসোল জেলা আদালত-এর জেলা বিচারকের দপ্তরে একটি ই-মেল আসে। সেখানে দাবি করা হয়, জেলা আদালত ও মহকুমা আদালত চত্বরে বোম রাখা হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। আসানসোল আদালতে বোমাতঙ্ক মেল পাওয়ার পরই তৎপর হয় আদালত প্রশাসন। জেলা বিচারকের নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গে খালি করে দেওয়া হয় আদালত চত্বর। বিচারক, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ডাকা হয় বম্ব স্কোয়াড। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। জেলা বিচারক দেবপ্রসাদ নাথ জানান, “মনে হচ্ছে এটা ভুয়ো মেল। তবুও আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে বম্ব স্কোয়াডকে ডাকা হয়েছে। পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আনুমানিক সাড়ে এগারোটা সময় মেল আসে, সেখানে লেখা ছিল যে বোম রাখা হয়েছে। সেই কারণেই আপাতত আদালতের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।” খবর ছড়িয়ে পড়তেই আদালত চত্বরের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেন উদ্বিগ্ন মানুষজন। আইনজীবীদের একাংশ জানান, হঠাৎ করে এভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু মামলার শুনানি স্থগিত রাখতে হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেলের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও প্রাথমিকভাবে এটি ভুয়ো হুমকি বলেই মনে করা হচ্ছে, তবুও কোনো রকম ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি কোণায় কোণায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়ে। আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এ ধরনের হুমকি মেল পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে— সত্যিই কি এটি নিছক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো উদ্দেশ্য।
মুকুল রায়ের জীবনাবসান, হাসপাতালেই প্রয়াত প্রবীণ নেতা
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই নিউ টাউনের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রবীন নেতা। রবিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘ দিন ধরেই কিডনি-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যার কারণে অসুস্থ ছিলেন মুকুল। মাঝে মধ্যেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হত। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন রবিবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুকুল। মৃত্যুর খবর পেয়েই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন মুকুল। তৃণমূল দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। এক সময়ে রাজ্যসভার সদস্য পদের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। জাহাজ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলানোর পরে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন মুকুল।
আসানসোলে লিওনেল মেসির পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন : ফুটবল জ্বরে কাঁপছে শিল্পাঞ্চল
সকাল সকাল ডেস্ক আসানসোল : কলকাতার পর এবার শিল্পশহর আসানসোলে ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হলো। রবিবার সন্ধ্যায় আসানসোলের মহীশিলা এলাকায় আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলারের একটি অত্যন্ত জীবন্ত মোমের মূর্তি উন্মোচন করেন রাজ্যের শ্রম ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। আসানসোলের প্রখ্যাত ভাস্কর সুশান্ত রায় দীর্ঘ দু’মাসের কঠোর পরিশ্রমে মেসির এই মোমের প্রতিকৃতিটি তৈরি করেছেন। মূর্তির সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং মুখের অভিব্যক্তির নিখুঁত শৈলী সাধারণ মানুষের নজর কাড়ছে। শহরবাসীর জন্য এটি একটি বিশেষ উপহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মেসির প্রতি উন্মাদনার শুরু হয়েছিল গত বছরের শেষ দিকে। গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কলকাতার লেক টাউন শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব একটি ৭০ ফুট উঁচু লোহার বিশালাকার মেসির মূর্তি স্থাপন করেছিল। ওই মূর্তিতে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে তুলে ধরা হয়েছিল। স্বয়ং লিওনেল মেসি তাঁর ‘গো অ্যাট ইন্ডিয়া ট্যুর ২০২৫’ চলাকালীন ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতার সেই মূর্তির উদ্বোধন করেছিলেন। কলকাতার মূর্তিটি বিশালাকার হলেও, আসানসোলের এই মোমের মূর্তিটি তার সজীবতার জন্য প্রশংসিত হচ্ছে। ভাস্কর সুশান্ত রায় জানিয়েছেন, মাত্র দুই মাসে তিনি এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেছেন। উন্মোচনের পর থেকেই ফুটবল প্রেমীদের ঢল নেমেছে মহীশিলায়। প্রিয় তারকার মূর্তির সঙ্গে সেলফি তুলতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরণের উদ্যোগের ফলে আসানসোলের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াপ্রেমী পরিচয় আরও দৃঢ় হবে। আয়োজকদের দাবি, এই মূর্তি উন্মোচনকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। কলকাতার রেশ ধরে আসানসোলের এই আয়োজন প্রমাণ করল যে, বাংলায় ফুটবল এবং মেসির প্রতি আবেগ আজও অমলিন।
হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কমিশনের ‘নির্দেশিকা’ জারির প্রমাণ পেশ অভিষেকের
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : নির্বাচন কমিশনকে তোপ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এক্স পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রকাশ্যে অমান্য করা যেতে পারে? দেশের সর্বোচ্চ আদালত বারবার স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং সরকারি যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক মাধ্যম অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছে। অথচ আমরা দেখছি, আনুষ্ঠানিক, অনুসরণযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক পদ্ধতির পরিবর্তে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ জারি করা হচ্ছে।’ অভিষেক একাধিক প্রমাণ উত্থাপন করে এক্স মাধ্যমে অভিযোগ করেন, “আরও বেশি উদ্বেগজনক হল, স্পেশাল রোল অবজারভার সি. মুরুগান, একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সরাসরি মাইক্রো অবজারভারদের কাছে জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করেন, যাতে সংখ্যা মুছে ফেলার সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়। আমি কি নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকাটি মনে করিয়ে দিতে পারি যে, মাইক্রো-অবজারভারদের ভূমিকা কঠোরভাবে সহায়ক হতে হবে? তাহলে কেন আইনগত পদ্ধতি উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং কার নির্দেশে?
নিয়োগের দাবিতে চাকরিপ্রার্থীদের বিকাশ ভবন অভিযান, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে উত্তপ্ত করুণাময়ী
সকাল সকাল ডেস্ক কলকাতা : ভোটমুখী বাংলায় নিয়োগের দাবিতে ফের পথে নামলেন চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন ২০১৪ ও ২০১৭ সালের টেট উত্তীর্ণ এনআইওএস ডি.এল.এড চাকরিপ্রার্থীরা। তবে মিছিল শুরু হতেই পুলিশি বাধায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। এর প্রতিবাদে করুণাময়ীতেই রাস্তায় থালা বাজিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের দাবি, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনও সুরাহা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পালের পদত্যাগের দাবিতে এদিন বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল। চাকরিপ্রার্থীদের এই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই সতর্ক ছিল বিধাননগর কমিশনারেট। করুণাময়ী, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং বিকাশ ভবনের সামনে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। পুরো এলাকা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ। মিছিলটি করুণাময়ী পৌঁছানো মাত্রই পুলিশ তা আটকে দেয়। শুরু হয় ধরপাকড়, যা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তীব্র বাদানুবাদ হয়। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে তাঁদের বিকাশ ভবনে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বৃদ্ধার বাড়ি সাফ করে পুলিশের জালে বিশ্বস্ত গৃহকর্মী ও তার দাদা
সকাল সকাল ডেস্ক সোমনাথ গুপ্ত, দুর্গাপুরযে মানুষটাকে দুই দশক ধরে নিজের বাড়ির একজন বলে ভেবেছিলেন এক বৃদ্ধা। যার হাতে দিনের পর দিন সংসারের চাবি ছিল সেই বিশ্বস্ত গৃহকর্মীই সাফ করেছিল পুরো বাড়ি।দুর্গাপুরের ফরিদপুর ফাঁড়ি এলাকার ৫৪ ফুট এলাকায় এক বৃদ্ধার বাড়িতে চুরির ঘটনায় সামনে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেফতার ওই গৃহকর্মী এবং আরো এক ব্যক্তি। শুক্রবার বিকেলে দুর্গাপুর থানায় সাংবাদিক বৈঠক করেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্তা। তিনি বলেন, বিগত বছরের ২৭ ডিসেম্বর একটি ঘটনা ঘটেছিল। বাড়ি থেকে গয়না ও নগদ টাকা খোয়া যাওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন ওই বৃদ্ধা। অভিযোগ পেতেই আইসি ফরিদপুর ও ওসি দুর্গাপুরের নেতৃত্বে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয় এই চুরি বাইরের কোনও দুষ্কৃতীর কাজ নয়, বরং ঘরের ভেতরেই গড়ে উঠেছিল পুরো ছক। পুলিশি তদন্তে গ্রেফতার করা হয়েছে সঞ্জয় ওঝা ও তার ভাই শিবনাথ ওঝাকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সঞ্জয় ওঝা প্রায় কুড়ি বছর ধরে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে বিশ্বস্ত গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। দীর্ঘদিনের সেই আস্থা, নির্ভরতা আর নিরাপত্তার অনুভূতিকে কাজে লাগিয়েই চুরির পরিকল্পনা করে সে।তদন্তের পর পুলিশ উদ্ধার করেছে চুরি যাওয়া সমস্ত গয়না এবং নগদ ২৪ হাজার টাকা। সোনা রুপোর প্রায় লক্ষাধিক টাকার অলংকার ছিল। কিন্তু ঘটনায় নাটকীয় মোড় আসে তদন্ত চলাকালীন। শিবনাথ ওঝার কাছ থেকে একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। যার জেরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেপৃথক মামলাও রুজু হয়েছে। ধৃত দু’জনেরই বাড়ি ঝাড়খণ্ডের বোকারোতে। বর্তমানে তারা দুর্গাপুরে বসবাস করছিল বলেই পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই মুহূর্তে দু’জন অভিযুক্তই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এই সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি কমিশনারের পাশাপাশি এসিপি দুর্গাপুর সুবীর রায়, সিআই রণবীর বাগ সহ পুলিশের আধিকারিকরা। পুলিশ মনে করছে, জেরায় এই চুরির পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে সম্মানিত কারগিল যুদ্ধের সৈনিক তপন কুমার ঘোষ, গর্বে আবেগাপ্লুত বসিরহাট
সকাল সকাল ডেস্ক বসিরহাট : দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা এক বাঙালি সৈনিকের অসামান্য কর্মজীবনের স্বীকৃতি মিলল রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়ার বাসিন্দা, কারগিল যুদ্ধের সৈনিক তপন কুমার ঘোষ রাষ্ট্রপতি বিশেষ সম্মানে ভূষিত হলেন। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন।তপন কুমার ঘোষের বাবা সন্তোষ ঘোষ ছিলেন এক ক্ষুদ্র কাঠের দোকানের মালিক। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও ছোটবেলা থেকেই দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন তপনবাবু। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ১৯৮৫ সালে তিনি বিএসএফে কনস্টেবল হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ ৩৯ বছরের কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হন। কাশ্মীরের এলওসি, পাঞ্জাব সহ দেশের একাধিক সীমান্তে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামনে থেকে কারগিল যুদ্ধে অংশ নিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেন।নতুন প্রজন্মের বিএসএফ জওয়ানদের প্রশিক্ষণ দিয়েও তিনি দেশরক্ষার আদর্শ তুলে ধরেছেন। ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি অবসর নিলেও তখন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার সেই সম্মান হাতে পেয়ে গোটা ঘোষ পরিবার ও গ্রামবাসীরা গর্বিত। তপনবাবু জানান, সততা ও দেশপ্রেম নিয়েই সবাইকে দেশের সেবায় এগিয়ে আসতে হবে।
হিঙ্গলগঞ্জে জলের দাবিতে রাস্তা অবরোধ গ্রামবাসীদের
সকাল সকাল ডেস্ক উত্তর ২৪ পরগনা – পানীয় জলের দাবিতে বালতি ও কলসি হাতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা। উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের স্কুলপাড়া এলাকায় শুক্রবার এই ঘটনা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন এলাকার মহিলারা হাসনাবাদ–হিঙ্গলগঞ্জ রোড অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভ করেন।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে স্কুলপাড়া এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর উদ্দেশ্যে একটি হাই ওয়াটার ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই ট্যাঙ্কের সঙ্গে এলাকার জলের পাইপলাইনের কোনও সংযোগ করা হয়নি। ফলে ট্যাঙ্ক তৈরি হয়ে পড়ে থাকলেও এলাকার মানুষ একফোঁটা জলও পাচ্ছেন না। বারবার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।স্থানীয়দের দাবি, বহু বছর ধরেই এই এলাকায় তীব্র পানীয় জলের সংকট চলছে। প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারকে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা—সব ঋতুতেই কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে মাথায় করে জল বয়ে আনতে হয়। হাই ওয়াটার ট্যাঙ্ক তৈরি হওয়ায় মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল, এবার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।এদিন বিক্ষোভকারীরা ট্যাঙ্ক নির্মাণকারী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ জানান। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে হাই ওয়াটার ট্যাঙ্ক চালু করে এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে।
“দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা চলছে”, প্রকাশ্য মঞ্চে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
সকাল সকাল ডেস্ক মুর্শিদাবাদ : বহরমপুর স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবারের সভা যেন পরিণত হল কঠোর বার্তার মঞ্চে। জেলার মানুষকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদে নতুন করে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা চলছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া সতর্কবার্তা, “নতুন করে মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা হচ্ছে। তারপর এএনআই-এর হাতে কেস তুলে দিতে চাইছে। সব দলেই কিছু বেইমান থাকে। কুলাঙ্গার থাকে। আমাদেরও কেউ কেউ টাকা খেয়ে ইলেকশনের আগে বিজেপির তাঁবেদারি করে। এরা দেশের শত্রু। নির্বাচনের দু’মাস আগে যারা বিজেপির পাল্লায় পড়ে এসব কাজ করে তারা দেশের শত্রু।” তীব্র শ্লেষের সুরে বলেন, “কিছু পোকা-মাকড় থাকবেই, তারাও তো প্রকৃতির জীব। ওদের সরিয়ে দিয়ে নিজের কাজটা করুন। আমার ওপর বিশ্বাস আছে তো? মুর্শিদাবাদে দাঙ্গা হতে দেবেন না। মনে রাখবেন, আমি আপনাদের পাহারাদার। আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমার। কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না।”
পানীয় জলের দাবি কারখানা গেটের সামনে শ্রমিক পরিবারের মহিলাদের বিক্ষোভ
সোমনাথ গুপ্ত, দুর্গাপুর : রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা দুর্গাপুর কেমিকেলস কারখানা ২০১৯ সালে বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কারখানার রক্ষনাবেক্ষণের জন্য প্রায় দুশো জন অস্থায়ী শ্রমিক কাজ করে চলেছেন আজও। টানা ছ মাস ধরে জল যন্ত্রনায় জেরবার এই অস্থায়ী শ্রমিকদের পরিবার পরিজন, ২২ দিন হলো পরিস্তিতি আরো ভয়ঙ্কর হয়েছে। বারবার বলার পর কর্তৃপক্ষ গা না করাতে বৃহস্পতিবার মহিলারা চলে আসেন কারখানার গেটের সামনে, শুরু করেন গেটের সামনে বিক্ষোভ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কোকওভেন থানার পুলিশ। যতক্ষণ দাবী না মিটছে ততক্ষন আন্দোলন জারি রাখার হুশিয়ারী দেন শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা। জলের জন্য টাকা নেওয়ার পরও কেন জল দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ? এই প্রশ্ন তুলে সরব হয় আন্দোলনকারীরা। শেষে ঘন্টা খানেক আন্দোলন চলার পর পুলিশের মধ্যস্ততায় শেষে কর্তৃপক্ষ কথা দেয় খুব তাড়াতাড়ি সমস্যা মিটবে। এইদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে দুর্গাপুর নগর নিগম থেকে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা হবে, তবে বিরোধীরা যেন এই সমস্যায় ইন্ধন না দেয় প্রতিক্রিয়া তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়ের। শাসক দলকে পাল্টা কটাক্ষ জেলা বিজেপি নেতৃত্বের। সব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে নিমেষে উতেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুর্গাপুরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে দুর্গাপুর কেমিকেলস কারখানার সামনে।