জয়পুরের মাটি থেকে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের, উন্নয়নের খতিয়ান দিয়ে অর্জুন মাহাতোর পক্ষে সওয়াল

সকাল সকাল ডেস্ক

শেফালী মাহাতো, কোটশিলা:

পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের অন্যতম তরুণ তুর্কি তথা জেলা পরিষদ সদস্য অর্জুন মাহাতোর সমর্থনে কোটশিলার বামনিয়া ডাকবাংলো মাঠে নির্বাচনী জনসভা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই জনসভা থেকে একদিকে যেমন উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ করেন তিনি, তেমনই কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও পারিবারিক রাজনীতি নিয়ে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।

এদিন ভাষণের শুরুতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী অর্জুন মাহাতোর প্রশংসা করে বলেন, “অর্জুন কোনো পারিবারিক পরিচিতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের লড়াই এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তৃণমূল স্তর থেকে উঠে এসেছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, অন্য দলের প্রার্থীরা যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে গিয়ে নিজের ছেলের জন্য টিকিট নিয়ে আসেন, সেখানে অর্জুন মাহাতো মাটির লড়াই লড়ে আজ আপনাদের প্রতিনিধি হয়েছেন।

বিজেপি সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মোদী সরকার সাধারণ মানুষের জন্য কী করেছে? আমি আমার রিপোর্ট কার্ড নিয়ে এসেছি, ক্ষমতা থাকলে ওরাও রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুক।” তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার বাংলার মানুষের ১০০ দিনের কাজের টাকা এবং আবাস যোজনার টাকা আটকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে ‘ভাতে মারার’ চেষ্টা করছে।
পুরুলিয়া ও জয়পুরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি জানান, পুরুলিয়া জেলায় ইতিমধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ পাকা বাড়ি পেয়েছেন। জয়পুর ব্লকেই প্রায় ৮২ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন। পথশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে জয়পুরে ১১০টি রাস্তা সংস্কার ও নির্মাণ করা হয়েছে।
আগামী দিনের প্রতিশ্রুতি জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন এই প্রকল্পের সুবিধা মায়েরা আজীবন পাবেন। প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে। ব্লক ভিত্তিক ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ পরিষেবা চালু করা হবে। কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য সরকার বাংলার প্রতিটি গরিব মানুষকে পাকা বাড়ি তৈরি করে দেবে।
যাদের আবেদন জমা পড়েছে, তাদের প্রত্যেকের বকেয়া টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। সবশেষে জয়পুরের মানুষের উদ্দেশ্যে তিনি আশ্বস্ত করেন, “যেভাবে আমি ডায়মন্ড হারবারকে আগলে রাখি, আগামী দিনে ঠিক একইভাবে জয়পুরকেও নিজের সবটুকু দিয়ে আগলে রাখবো।” এদিনের সভায় জেলা চেয়ারম্যানসহ নিবেদিতা মাহাতো, গৌরব সিং, উজ্জ্বল কুমার, মিনি বাউরী, কিরী আচারিয়া, সাদ্দাম আনসারী ও শক্তিপদ মাহাতোর মতো জেলা ও ব্লক স্তরের একাধিক নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

Read More News

টাটা–বক্সার–টাটা হোলি স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল কর্তৃপক্ষ, যাত্রীদের মিলবে অতিরিক্ত স্বস্তি

সকাল সকাল ডেস্ক পূর্ব সিংভূম : হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে ঝাড়খণ্ডের...

Read More