US Deportation Case: 7 বড় প্রশ্নে বিতর্ক, ইরাক যুদ্ধে লড়া সাবেক সেনাসদস্য এবার বহিষ্কারের মুখে

সকাল সকাল ডেস্ক

US Deportation Case ঘিরে নতুন বিতর্ক। ইরাক যুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর হয়ে দায়িত্ব পালনকারী বেনিতো মিরান্দা হার্নান্দেজ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির জেরে ডিপোর্টেশনের ঝুঁকিতে।

ইরাক যুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর হয়ে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দেশের নিরাপত্তার জন্য সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন বাজি রেখেছিলেন। কিন্তু সেই সামরিক সেবার স্বীকৃতি হিসেবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পরিবর্তে এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন বেনিতো মিরান্দা হার্নান্দেজ। US Deportation Case ঘিরে এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, সামরিক বাহিনীতে বিদেশি নাগরিকদের ভূমিকা এবং নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, এই US Deportation Case শুধু একজন সাবেক সেনাসদস্যের ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং বহু অভিবাসী সেনার দীর্ঘদিনের সমস্যার প্রতিফলন।

শৈশবেই মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা

বেনিতো মিরান্দা হার্নান্দেজ শৈশবে পরিবারের সঙ্গে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। সেখানেই বড় হয়ে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং ইরাক যুদ্ধে দায়িত্ব পালন করেন। হার্নান্দেজের মা মারিয়া মিরান্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘ কারাদণ্ডের পর তাঁর ছেলে নতুনভাবে জীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু মুক্তির পরই তাঁকে আটক করা হয়। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “সে জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ পেতে চেয়েছিল। তার অনেক পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতেই হার্নান্দেজ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পান। সাধারণভাবে এই মর্যাদা নাগরিকত্ব পাওয়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে আগের অপরাধমূলক মামলার ভিত্তিতে এখন বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সময় তাঁকে দ্রুত মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে সেই নাগরিকত্ব আর পাওয়া হয়নি।

কারামুক্তির পরই আটক

সম্প্রতি একটি মামলায় কারাদণ্ড ভোগের পর হার্নান্দেজ মুক্তি পান। পরিবার ভেবেছিল, এবার তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করবেন। কিন্তু কারাগার থেকে বের হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (ICE) কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন।

বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়াগোর ওটেই মেসা ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই US Deportation Case ইতিমধ্যেই মানবাধিকার সংগঠনগুলির নজর কেড়েছে।

প্রতিবাদে সরব অধিকারকর্মীরা

হার্নান্দেজের সমর্থনে সান দিয়াগোর ফেডারেল আদালতের বাইরে বিক্ষোভ দেখান একাধিক অধিকারকর্মী।

ব্ল্যাক ডিপোর্টেড ভেটেরান্স অব আমেরিকা-এর প্রতিষ্ঠাতা জেমস স্মিথ বলেন, বিদেশি অভিবাসীদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগের সময় নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বহু সাবেক সেনাসদস্য সেই প্রতিশ্রুত সুবিধা পাননি।

তাঁর মতে, যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, তাঁদের বহিষ্কারের মুখে ঠেলে দেওয়া শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটি একটি নৈতিক প্রশ্নও।

পরিবারের আক্ষেপ

হার্নান্দেজের মা মারিয়া মিরান্দা জানান, তাঁর ছেলে দীর্ঘ কারাদণ্ডের পর নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার পরই তাঁকে আটক করা হয়।

তাঁর কথায়, ছেলে দ্বিতীয় সুযোগ পাওয়ার আশা করেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে যায়।

গ্রিন কার্ড থাকা সত্ত্বেও অনিশ্চয়তা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতেই হার্নান্দেজ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পান। সাধারণভাবে এটি নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

তবে অতীতের একটি অপরাধমূলক মামলার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে গ্রিন কার্ড থাকা সত্ত্বেও তাঁর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

Background

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিদেশি অভিবাসীদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে উৎসাহিত করে আসছে। বিনিময়ে দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগের কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক আবেদনকারী প্রশাসনিক বিলম্ব ও আইনি জটিলতার কারণে সেই সুবিধা পাননি।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর অন্তত ৩৪ জন সাবেক সেনাসদস্যকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন অধিকারকর্মীরা।

Impact

  • অভিবাসী সাবেক সেনাসদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
  • যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
  • সামরিক বাহিনীতে বিদেশি নাগরিক নিয়োগের নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
  • মানবাধিকার সংগঠনগুলি আইনি সংস্কারের দাবি তুলেছে।
  • নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনাও তীব্র হয়েছে।

Official Statement

মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, যারা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যুদ্ধ করেছেন তাঁদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন নীতিতে আরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী মামলাটি পরিচালনা করছে।

আরও অন্য খবরের জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ

Public Information

  • নাম: বেনিতো মিরান্দা হার্নান্দেজ
  • পেশা: মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য
  • যুদ্ধ: ইরাক যুদ্ধ
  • বর্তমান অবস্থা: ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়ায় আটক
  • আটক কেন্দ্র: ওটেই মেসা ডিটেনশন সেন্টার, সান দিয়াগো
  • ইস্যু: নাগরিকত্ব ও অভিবাসন নীতি

Read More News

SIR Process: যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা, বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ দিলেন সিইও

সকাল সকাল ডেস্ক ৩০ জুন থেকে শুরু ইনুমেরেশন পর্ব, ভুল তথ্য দিলে হতে পারে আইনি ব্যবস্থা SIR...

রাঁচি স্টেডিয়াম পদদলিতের ঘটনায় জেএসসিএ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিজেপির তীব্র আক্রমণ, এফআইআরের দাবি

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচি স্টেডিয়ামে সাম্প্রতিক পদদলিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা...

ডুরান্ড কাপ আয়োজন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সেনা কর্মকর্তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি রাঁচির কাঁকে রোডে অবস্থিত মুখ্যমন্ত্রীর আবাসিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার...

মাদকাসক্তি বিরোধী সচেতনতায় রাঁচিতে ম্যারাথন দৌড়, তরুণদের শপথ ঝাড়খণ্ডকে নেশামুক্ত গড়ার

সকাল সকাল ডেস্ক রাঁচি মুখ্যমন্ত্রী শ্রী হেমন্ত সোরেনের নির্দেশে ঝাড়খণ্ডজুড়ে মাদকাসক্তি বিরোধী...

Read More