সকাল সকাল ডেস্ক।
Venezuela Earthquake-এর ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় মৃত অন্তত ২৩৫, আহত ১,৫০০-এর বেশি। উদ্ধার অভিযান ও আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। Venezuela Earthquake-এর জোড়া আঘাতে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১,৫০০-এরও বেশি মানুষ। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২। মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার ৭.৫ মাত্রার আরও শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানে। এই Venezuela Earthquake শুধু ভেনেজুয়েলাকেই নয়, গোটা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাকে কাঁপিয়ে তোলে। মুহূর্তের মধ্যে বহু ভবন, সেতু এবং আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উদ্ধারকাজে যুদ্ধকালীন তৎপরতা

ভূমিকম্পের পরপরই জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহরে উদ্ধারকারী দল, সেনাবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবকরা একযোগে কাজ করছেন। ভেঙে পড়া বহুতল ভবন এবং আবাসিক এলাকার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়নি। হাসপাতালে আহতদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা টানা কাজ করে আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
কেন এত ভয়াবহ হলো এই ভূমিকম্প?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। দেশটি ক্যারিবিয়ান এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থান করায় ভূগর্ভে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি হয়। এই চাপ হঠাৎ মুক্তি পেলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
এবারের Venezuela Earthquake দেশের অন্যতম সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক অঞ্চল ‘বোকোনো ফল্ট’-এর কাছে উৎপন্ন হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ফল্ট লাইনে দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ চাপ জমা হচ্ছিল। ফলে পরপর দুটি শক্তিশালী কম্পন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সিসমিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করেন যেখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ফলে বড় ধরনের ভূমিকম্পে প্রাণহানি এবং সম্পদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে।
আফটারশকের আতঙ্কে সাধারণ মানুষ
প্রধান ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ৬ মাত্রার বেশি শক্তিশালী আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে বহু মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে খোলা মাঠ, পার্ক এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাচ্ছেন।
সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে বিপুল
USGS-এর স্বয়ংক্রিয় বিপর্যয় মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, Venezuela Earthquake-এর কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে হতে পারে। বহু সড়ক, সেতু, সরকারি ভবন, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস এবং মাটির তরলীকরণের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তার হাত
এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ দ্য রেড ক্রস জরুরি লজিস্টিক অপারেশন শুরু করেছে এবং প্রায় ৪০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থাকে প্রস্তুত করেছে। মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমানে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্যোগ?
ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে অতীতেও ভয়াবহ ভূমিকম্পের নজির রয়েছে। ১৯৬৭ সালে কারাকাসে সংঘটিত এক ভূমিকম্পে প্রায় ২৪০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এরও আগে ১৮১২ সালের ঐতিহাসিক ভূমিকম্পে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান Venezuela Earthquake সেইসব ভয়াবহ দুর্যোগের তালিকায় নতুন সংযোজন হতে পারে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার আগে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র জানা সম্ভব নয়। তবে ইতিমধ্যেই এটি ভেনেজুয়েলার জন্য একটি বড় মানবিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং হাজার হাজার পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশ্বের নজর এখন ভেনেজুয়েলার দিকে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নতুন প্রাণ উদ্ধারের আশা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
No Comment! Be the first one.