সকাল সকাল ডেস্ক
- নয়াদিল্লি। দীপাবলির উৎসব উপলক্ষে এ বছর রাজধানী দিল্লি সহ গোটা দেশজুড়ে বাজারে উৎসবের আমেজ। ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট সারাফা বাজার। ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) এবং এর স্বর্ণকার শাখা অল ইন্ডিয়া জুয়েলার্স অ্যান্ড গোল্ডস্মিথ ফেডারেশন (AIJGF) জানিয়েছে যে, ধনতেরস উপলক্ষে দেশজুড়ে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সোনা ও রুপোর বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
CAIT ও AIJGF শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সারাফা বাজারে পরিচালিত সমীক্ষা অনুযায়ী এ বছর ধনতেরসে সোনা–রুপোর মুদ্রা বিক্রিতে বিপুল উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে, যদিও সোনার গয়না বিক্রিতে সামান্য মন্দা অনুমান করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ব্যবসায়ী ও ক্রেতা — উভয়ের মুখেই আবার হাসি ফুটেছে। শনিবার ধনতেরসের উৎসব উদযাপন করা হবে। এই দিনে সোনা, রুপো, বাসনপত্র ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম কেনাকে শুভ বলে মনে করা হয়।
CAIT-এর জাতীয় মহাসচিব ও সংসদ সদস্য প্রবীণ খণ্ডেলওয়াল এবং AIJGF-এর জাতীয় সভাপতি পঙ্কজ অরোরা জানান, সোনা–রুপোর রেকর্ড উচ্চমূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ক্রেতারা এখন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুদ্রা (কয়েন) কেনাকাটাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ফলে ঐতিহ্যবাহী গয়নার চাহিদা কিছুটা কমেছে। বিয়ের মরশুমের ক্রেতারাও ভারী গয়নার বদলে হালকা অলংকারের দিকে ঝুঁকছেন।
তাঁরা জানান, গত বছর দীপাবলির সময় সোনার দাম ছিল প্রায় ৮০,০০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম, কিন্তু এ বছর তা বেড়ে ১,৩০,০০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম ছাড়িয়েছে — অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি। একইভাবে, ২০২৪ সালে রুপোর দাম ছিল ৯৮,০০০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম, যা এখন বেড়ে ১,৮০,০০০ টাকা প্রতি কিলোগ্রাম ছাড়িয়েছে — প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি। এই দামের ঊর্ধ্বগতির ফলে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক হারে সারাফা বাজারের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন।
খণ্ডেলওয়ালের মতে, ধনতেরস থেকে দীপাবলি পর্যন্ত উৎসব মৌসুমে বুলিয়ন ও মুদ্রার চাহিদাই সর্বাধিক থাকবে। অরোরা জানান, দেশে প্রায় ৫ লক্ষ ছোট-বড় স্বর্ণকার ও জুয়েলারি ব্যবসায়ী সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। যদি প্রত্যেক জুয়েলার গড়ে ৫০ গ্রাম সোনা বিক্রি করেন, তাহলে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৫ টন সোনা, যার বর্তমান বাজারদরে মূল্য প্রায় ৩২,৫০০ কোটি টাকা।
খণ্ডেলওয়াল ও অরোরা আরও বলেন, পরিবর্তিত বাজার প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন জুয়েলাররা ফ্যান্সি জুয়েলারি ও রুপোর মুদ্রার মতো নতুন বিকল্প পণ্যের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাতে গ্রাহকদের বদলানো পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবসাকে আরও গতিশীল করা যায়।
No Comment! Be the first one.