হেমন্ত সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির রাজ্যব্যাপী বিক্ষোভ, কড়া হুঁশিয়ারি বাবুলাল মারান্ডির

সকাল সকাল ডেস্ক।

রাঁচি — ঝাড়খণ্ডে হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে আজ ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজ্যের সমস্ত ২৬৪টি প্রখণ্ড/অঞ্চল কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করে। সরকারকে ছয় মাস সময় দেওয়ার পর এই আন্দোলনের সূচনা হল বলে বিজেপি জানিয়েছে।

এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন রাজ্য সভাপতি ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কার্যকরী সভাপতি ডঃ রবিদ্র কুমার রাই, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেন, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ আদিত্য সাহু, প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অমর কুমার বাউরি, বিধায়ক ও অন্যান্য রাজ্যস্তরের নেতা-কর্মীরা।

গিরিডিহ জেলার তিসরি ও গাওয়ান প্রখণ্ডে নিজে উপস্থিত থেকে আন্দোলন পরিচালনা করেন বাবুলাল মারান্ডি। তিনি জনসভায় বলেন, “হেমন্ত সরকার আদিবাসী, দলিত, মহিলা, কৃষক ও যুব বিরোধী নীতি গ্রহণ করেছে। সরকারের নীতি ও মনোভাব আগের সরকারের মতোই রয়ে গেছে, কোনো পরিবর্তন হয়নি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “আজ রাজ্যের খনিজ সম্পদ দালাল ও মাফিয়াদের হাতে লুট হচ্ছে, কিন্তু গ্রামের দরিদ্র মানুষ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অধীনে ঘর নির্মাণের জন্য বালুও পাচ্ছেন না।”

তিনি আরও বলেন, “একদিকে মাফিয়া নদী থেকে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে গরিবের ট্রাক্টর পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে মামলা দিচ্ছে। আধিকারিকরা ঘর নির্মাণ প্রকল্পে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিচ্ছেন, অথচ গরিবরা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না।”

স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুরবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রখণ্ড হাসপাতালে ডাক্তার নেই, অ্যাম্বুলেন্স নেই, ওষুধ নেই। দরিদ্রদের বাধ্য হয়ে রাঁচি বা জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “রাজ্যের যুবসমাজ হতাশ। চাকরির জন্য বিজ্ঞপ্তি বেরোলেও, তা বাইরে থেকে লোক এনে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় যুবদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না।”

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নতুন শিক্ষানীতিতে ইন্টারমিডিয়েট পড়াশোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতার বাইরে চলে গেলেও রাজ্য সরকার গত পাঁচ বছরেও ইন্টার কলেজগুলির উন্নয়ন করেনি। ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্র দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, “অপরাধীরা আজ বেপরোয়া। খুন, লুট, ধর্ষণের মতো ঘটনাগুলি যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে ঘটে চলেছে।”

কৃষকদের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “ধানের প্রতি কুইন্টালে ৩২০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে, সরকার মাত্র ২৪০০ টাকায় ধান কিনেছে। তাও টাকা এখনও কৃষকদের হাতে পৌঁছায়নি। এর মধ্যে রাজ্য সরকারের অবদান মাত্র ১০০ টাকা, বাকি ২৩২০ টাকা কেন্দ্রের।”

শেষে মারান্ডি বলেন, “এই সরকার ভোট নিয়ে আবারও জনগণকে ঠকিয়েছে। আধিকারিকদের পদ বিক্রি হচ্ছে, তাই তারা কাজ না করে শুধু উপার্জনের দিকেই নজর দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বিজেপি বারবার আন্দোলনে নামবে।”

তিনি বলেন, “আজকের প্রখণ্ড পর্যায়ের বিক্ষোভ কেবল শুরু মাত্র। ভবিষ্যতে থানা, জেলা সহ অন্যান্য দপ্তরেও বৃহত্তর আন্দোলন হবে, যদি সরকার এখনো না জাগে।”

Read More News

রেডিসন ব্লু হোটেলে এনডিএ বিধায়কদের ঐক্যের বার্তা, মক পোলের মাধ্যমে ভোটদান প্রশিক্ষণ

রাঁচি। ১৮ জুন ঝাড়খণ্ডে অনুষ্ঠিত হতে চলা রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এনডিএ শিবিরে উৎসাহ তুঙ্গে।...

Read More