সকাল সকাল ডেস্ক।
বাঁকুড়া : রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডির স্বামী তুহিন মান্ডির ওপর হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাঁকুড়ার খাতড়া। শুক্রবার রাতে খাতড়া বাজারে এই হামলার অভিযোগে খাতড়া থানার পুলিশ ৬ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার তাঁদের খাতড়া মহকুমা আদালতে পেশ করে।
মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডি অভিযোগ করেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় খাতড়া বাজারে লাঠিসোঁটা হাতে জমায়েত করে ছিলেন বিজেপি কর্মীরা। ঠিক সেই সময় বাজারে মুদিখানার জিনিসপত্র কিনতে গিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত ১৫-১৬ জন বিজেপি কর্মী তাঁর স্বামীর উপর চড়াও হয়। হামলায় তুহিন মান্ডি পিঠ ও ডান হাতে গুরুতর আঘাত পান। পরে তাঁকে দ্রুত খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছাড়া হয়।
এই ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার ভিত্তিতে পুলিশ ৬ জন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে এবং শনিবার তাঁদের খাতড়া মহকুমা আদালতে পেশ করে। মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডির অভিযোগ, “বিজেপি গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। রাজনীতির লড়াই থাকতেই পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ কখনও মেনে নেওয়া যায় না। আমার স্বামী রাজনীতি করেন না। এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপির ঔদ্ধত্য এবার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। খাতড়ার মানুষ এই ঘটনার উপযুক্ত জবাব দেবে।”
যদিও তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে বিজেপির পালটা দাবি, “এই ঘটনা সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” বিজেপির বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক দীপক দাস বলেন, “শুক্রবার সন্ধ্যায় খাতড়া বাজারে তৃণমূলের গুন্ডারাই বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায়। বিজেপি কর্মীরা আত্মরক্ষায় প্রতিরোধ করে। পরে র্যাফ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও লাঠিচার্জ করে। সেই সময় কার লাঠির আঘাতে মন্ত্রীর স্বামী আহত হয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়। হতে পারে, তৃণমূলেরই কেউ ভুল করে লাঠি মেরেছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে মূল ঘটনা থেকে নজর ঘোরাতে তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে পুলিশের সাহায্য নিয়ে মিথ্যা মামলা করছে।”
No Comment! Be the first one.