তেহরান : আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলা সংঘাতের আজ ১৪তম দিন। এই সংঘাতের প্রভাবে অঞ্চলে থাকা তেল ও গ্যাসের বিশাল ভান্ডার নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি পরিকাঠামো ও বন্দরগুলিতে হামলা হলে তারা গোটা অঞ্চলের তেল ও গ্যাস ভান্ডারে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বন্দরগুলির ওপর আঘাত হানলে তারা এই অঞ্চলের সব তেল ও গ্যাস মজুদে আগুন লাগিয়ে দেবে। আইআরজিসির এই হুঁশিয়ারির আগে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন যে ইরান হরমুজ প্রণালী (স্ট্রেইট অব হরমুজ) বন্ধ করবে না। তবে এর আগে সম্প্রতি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত মোজতবা খামেনেই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্যে বলেছিলেন, এই জলপথটি “চাপ প্রয়োগের অস্ত্র” হিসেবে বন্ধ রাখা হতে পারে।
মোজতবার এই মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বৃহস্পতিবার দাবি করেছেন যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনেই প্রকাশ্যে মুখ দেখাতে পারছেন না। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মোজতবা খামেনেইয়ের বক্তব্যটি সরকারি টেলিভিশনে অন্য একজন পড়ে শোনান এবং তাঁর মুখ দেখানো হয়নি।
আইআরজিসির গুরুত্ব
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরানের সামরিক ব্যবস্থার সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিশেষ শাখা হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশের ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই বাহিনী গঠন করা হয়। এটি শুধু সামরিক বাহিনী নয়, ইরানের রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিদেশ নীতিতেও এর গভীর প্রভাব রয়েছে।
ইরানে মূলত দুই ধরনের সামরিক বাহিনী রয়েছে। প্রথমটি নিয়মিত সেনাবাহিনী, যাকে ‘আরতেশ’ বলা হয় এবং তারা সাধারণত সীমান্ত রক্ষা করে। দ্বিতীয়টি আইআরজিসি, যার প্রধান দায়িত্ব শাসনব্যবস্থা ও বিপ্লবকে রক্ষা করা। এই বাহিনী সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে জবাবদিহি করে, নির্বাচিত সরকারের কাছে নয়।
আইআরজিসির নিজস্ব স্থলবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী রয়েছে। এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হল কুদস ফোর্স ও বাসিজ। কুদস ফোর্স বিদেশে ইরানের সামরিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী—যেমন হিজবুল্লাহ ও হামাস—কে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে বাসিজ একটি আধাসামরিক স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী, যা দেশের অভ্যন্তরে বিক্ষোভ দমন ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হয়।
২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রও এই সংগঠনকে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল।
No Comment! Be the first one.